প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন
বুধবার দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা: ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট কমানো এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা জোরদার করতে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): সাউদার্ন রুট বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফের প্রকল্প ঋণ হিসেবে সংস্থান করার কথা রয়েছে।
নতুন মেয়াদ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের আগস্টের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একনেকের নথি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সাউদার্ন রুটটি রাজধানীর গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাব নগর, আফতাব নগর সেন্টার ও আফতাব নগর পূর্ব হয়ে নাসিরাবাদ ও দাসেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
প্রকল্পের আওতায় মেইন লাইনের সিভিল ও স্টেশন নির্মাণ, ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল ব্যবস্থা স্থাপন, আধুনিক রেলওয়ে সিস্টেম চালু, রোলিং স্টক ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ, পরামর্শক সেবা গ্রহণ, ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ করা হবে।
বর্তমানে রাজধানীতে এমআরটি লাইন-৬ আংশিকভাবে চালু রয়েছে। পাশাপাশি এমআরটি লাইন-১ এবং লাইন-৫-এর নর্দান রুটের কাজ চলমান। সাউদার্ন রুট চালু হলে এটি নর্দান রুট ও লাইন-১-এর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন রুটের মধ্যে যাত্রীদের আন্তঃসংযোগ সহজ হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির ব্যয় একাধিকবার পর্যালোচনা ও পুনর্গঠন করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ ধরে প্রকল্পটির ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। পরে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০২৫ থেকে ২০৩১ মেয়াদে ৪৭ হাজার ৭২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সবশেষ ২০২৬ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ পর্যালোচনা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের সার্বিক ব্যয় পুনর্গঠন করা হয়। এতে প্রাথমিক প্রস্তাবের তুলনায় প্রায় ২ হাজার ১৪১ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয় কমেছে। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণের অংশে সাশ্রয় হয়েছে ২ হাজার ২৪ কোটি টাকার বেশি।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ মনে করছে, ঢাকার যানজট কমানো এবং একটি সুসংহত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে।
কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় এডিবির অর্থায়নে সাউদার্ন রুটের প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বেসিক ও ডিটেইল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন, টেন্ডার সহায়তা এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
এসব প্রস্তুতিমূলক কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রকল্পটিকে বাস্তবায়নের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে দ্রুত গণপরিবহন নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান ও নির্মাণাধীন মেট্রোরেল লাইনগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরি করাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার উত্তর-দক্ষিণের পাশাপাশি পূর্ব-পশ্চিমমুখী গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন সংযোগ তৈরি হবে।