হেপাটাইটিস বি ঠেকাতে টিকা কেন জরুরি, কারা নেবেন
হেপাটাইটিস বি থেকে সুরক্ষায় টিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ, নবজাতক ও প্রাপ্তবয়স্কদের কারা টিকা নেবেন, কত ডোজ প্রয়োজন এবং ডোজ বাদ পড়লে কী করবেন—জেনে নিন।
স্বাস্থ্য: সারাদিন ক্লান্তি, অবসাদ কিংবা ঝিমুনি ভাব অনেকের নিত্যদিনের সমস্যা। কাজের সময় সতেজ থাকতে অনেকে বারবার কফি বা চা পান করেন। তবে ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ঘুমভাব কমালেও শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে না। ভারতীয় পুষ্টিবিদ পুজা মালহোত্রার মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কালো তিল যুক্ত করা শরীরের প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি পাওয়ার একটি সহজ উপায় হতে পারে।
শরীরের কোষে শক্তি উৎপাদনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আয়রন, কপার, ম্যাগনেশিয়াম ও বি-ভিটামিনের মতো পুষ্টি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কালো তিলে আয়রনের পাশাপাশি কপার রয়েছে। আয়রনকে শরীরে যথাযথভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কপারের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া এতে থাকা ভিটামিন বি১, বি৩ ও বি৬ এবং ম্যাগনেশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
কালো তিলের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় কালো তিল খাওয়ার সঙ্গে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কিছু সূচক কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অন্য একটি গবেষণায় নিয়মিত কালো তিলের গুঁড়া খাওয়ার পর রক্তচাপ ও রক্তনালির কার্যকারিতায় উন্নতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কালো তিলে থাকা সেসামিন ও সেসামোলিনের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যও প্রদর্শন করতে পারে। তবে এসব গবেষণার ফলাফলকে ক্লান্তি দূর করার সরাসরি চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
পুষ্টিবিদ পুজা মালহোত্রার পরামর্শ অনুযায়ী, কালো তিল হালকা ভেজে খাওয়া যেতে পারে। তাঁর মতে, অল্প আঁচে ২ থেকে ৩ মিনিট ভেজে এরপর গুঁড়া করে খেলে খাদ্যতালিকায় সহজে যুক্ত করা যায়।
তিনি প্রতিদিন প্রায় এক টেবিল চামচ বা ১০ থেকে ১২ গ্রাম কালো তিল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সকালের খাবারে কালো তিল যোগ করার কয়েকটি সহজ উপায় হলো—
এক চা-চামচ ভাজা ও গুঁড়া করা কালো তিল উষ্ণ দুধ বা বাদামের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। স্বাদ অনুযায়ী সামান্য মধু বা এক চিমটি জায়ফল যোগ করা যায়।
স্মুদি বা পোরিজে: গ্রিন স্মুদি, দইয়ের বাটি কিংবা সকালের পোরিজের ওপর ভাজা কালো তিল ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এতে খাবারে বাদামের মতো স্বাদ ও মচমচে ভাব যোগ হয়।
ভাজা কালো তিলের সঙ্গে থেঁতো করা খেজুর মিশিয়ে ছোট বল তৈরি করা যায়। এটি অতিরিক্ত চিনি ছাড়াই একটি ছোট নাশতা হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।
বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য পরিমিত পরিমাণে কালো তিল সাধারণত খাদ্যের অংশ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। তবে এতে ক্যালরি তুলনামূলক বেশি। এ ছাড়া তিলে প্রাকৃতিক অক্সালেটও থাকে।
যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস রয়েছে কিংবা তিল বা অন্য কোনো বীজে অ্যালার্জি আছে, তারা নিয়মিত কালো তিল খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সবশেষে, দীর্ঘদিনের ক্লান্তি বা অতিরিক্ত ঝিমুনি শুধু খাদ্যাভ্যাসের কারণে নাও হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য ও নিয়মিত জীবনযাপনের পরও সমস্যা থাকলে এর পেছনে অন্য কোনো শারীরিক কারণ রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।