অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে এফ-৩৫-এর স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ হংকংয়ে
অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর ক্যানোপি হংকংয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত পূরণ এবং নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তেহরানের শর্ত ও বার্তা স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ, ইরানের বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি এবং মার্কিন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলার বা আগের আলোচনার কাঠামোয় ফেরার সুযোগ নেই।
গালিবাফ বলেন, ইরানের অবস্থান ও শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া বা প্রতারণার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর পথ বন্ধ হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকৃত না হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান তার অবস্থান পরিবর্তন করবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিও এসব শর্তের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
গালিবাফ আরও বলেন, যুদ্ধ ও কূটনীতিকে পরস্পরের বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের পাশাপাশি উপযুক্ত সময়ে কূটনীতির মাধ্যমে অর্জিত অবস্থান সুসংহত করার কথাও বলেন তিনি।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধের সূচনা হয়। হামলার প্রথম দিকেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। পরে মার্চে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়।
যুদ্ধের কয়েক মাস পর জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। এর আওতায় সামরিক সংঘাত কমানো এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে প্রণালির নৌ চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালিটি ব্যবহার করত, সাম্প্রতিক সময়ে সেই সংখ্যা কয়েকটিতে নেমে এসেছে। বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে।
ইরানের কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় ফিরতেও তেহরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। গালিবাফের রোববারের বক্তব্যেও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং আগের আলোচনার কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার বিষয়টিকে একই শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
ফলে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক যোগাযোগ—দুটিই এখন তেহরানের শর্ত পূরণ ও জুনের সমঝোতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হয়ে পড়েছে।