অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে এফ-৩৫-এর স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ হংকংয়ে
অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর ক্যানোপি হংকংয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চালানো এসব হামলায় রিয়াদের ‘সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু’ এবং উপকূলীয় শহর ইয়ানবুতে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা নিশানা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবরও তারা নিশ্চিত করেনি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি জানান, রিয়াদের পাশাপাশি তাইফ, বায়িশ, ফারাসান ও ইয়ানবুতে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো কয়েকটি ‘শত্রুতামূলক হামলার চেষ্টা’ প্রতিহত করেছে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
হামলার আশঙ্কায় শনিবার ভোরে রিয়াদ ও আল-খারজে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘাত তীব্র হওয়ার পর এই প্রথম রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
সতর্কতার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। সেখানে একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার বিষয়টি এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আগুন নেভাতে দমকল বাহিনী কাজ করে।
আগুন ও হামলার সতর্কতার কারণে বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে কিছু ফ্লাইটের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটে। তবে ওই ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, রিয়াদের ‘সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু’ এবং ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
হুথিদের দাবি, সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইয়েমেনে সামরিক অভিযান এবং রাজধানী সানাকে লক্ষ্য করে হামলার জবাবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে হুথিদের দাবির সবগুলো লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ইয়েমেনে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর দীর্ঘ সময় তুলনামূলক শান্ত থাকার পর চলতি বছরের জুলাই থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত আবার তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেড়েছে।
এই উত্তেজনা লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও ভ্রমণরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। হুথিদের হামলায় বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে উল্লেখ করে সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল ও ভ্রমণসূচিতে বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।