বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে, মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের পূর্বাভাস এডিবির
চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে উঠতে পারে।
অর্থনীতি: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে ভর্তুকির জন্য ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৪৫ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিদ্যুৎ ও এলএনজি খাতে ভর্তুকির চাপ আরও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, চলতি অর্থবছরে দুই খাতে বরাদ্দের তুলনায় প্রকৃত ভর্তুকি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয় আগস্টের বিদ্যুৎ ভর্তুকি বাবদ ৪ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা এবং সেপ্টেম্বরের এলএনজি আমদানি ভর্তুকি হিসেবে ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে।
সর্বশেষ একসঙ্গে ছাড় করা ৭ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা দুই খাতে মাসিক গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ১২৭ শতাংশ বেশি।
এর আগে জুলাইয়ে বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং জুলাই ও আগস্টের এলএনজি ভর্তুকি বাবদ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ছাড় করা হয়েছিল।
জাতীয় বাজেটে চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ মাসে গড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ চেয়ে আসছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির প্রকৃত পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। গত অর্থবছরে এ খাতে সরকার ৪৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছিল।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে এলএনজি ভর্তুকির জন্য মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমে আসবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম স্বাভাবিক থাকবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই এই বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, চলতি অর্থবছরে এলএনজি ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এরই মধ্যে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় বাংলাদেশকে স্পট মার্কেটের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।
আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে কাতার চুক্তিগত দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ প্রয়োগ করায় দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটে। ফলে ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত এলএনজি কিনতে হচ্ছে।
চলতি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে বাংলাদেশকে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) প্রায় ৩০ ডলার দিতে হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে একই পরিমাণ এলএনজির দাম ছিল প্রায় ১১ থেকে ১২ ডলার। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে আপাতত সরাসরি ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর পরিবর্তে আগের ঋণ এবং গতিশীল মূল্য নির্ধারণের সূত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভর্তুকির সমন্বয় করার পরামর্শ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এদিকে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে সব ধরনের জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন দরে ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও এলএনজিতে ভর্তুকির চাপ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা চলতি অর্থবছরে সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।