মরিয়মের আত্মহত্যার মামলায় আপসনামা, নজরুলের জামিনে আপত্তি নেই বাবার
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের জামিনে আপত্তি নেই বলে আদালতে আপসনামা দাখিল করেছেন মরিয়মের বাবা। তবে আদালত তা গ্রহণ করেননি।
সিলেট: হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী বাসের শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন, হামলা এবং হবিগঞ্জের ৩টি বাস অবৈধভাবে আটকে রাখার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) ভোর থেকে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ সকল সড়কসহ দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগ ও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটে একাত্মতা প্রকাশ করেছে জেলার সর্বস্তরের যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই রুট কেন্দ্রিক বিরোধ ও পরিবহন ধর্মঘটের মূল কারণ ব্যাখ্যা করেছেন হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল।
হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জের বাস চলাচলে মৌলভীবাজারের পরিবহন শ্রমিক-মালিকরা অন্যায়ভাবে বাধা দিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময় হবিগঞ্জের শ্রমিকদের মারধর ও বাস ভাঙচুর করা হয়েছে।
গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল হবিগঞ্জের বাস শ্রীমঙ্গলে কোনো স্টপেজ না দিয়ে আগের নিয়মে সিলেট পর্যন্ত চলাচল করবে। কিন্তু গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের ‘এসএমএস’ মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস হঠাৎ আটকে রাখে।
পরবর্তীতে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমঝোতা হলে আটক ২২টি বাস ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে বাস চলাচল শুরু হওয়া মাত্রই মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ পুনরায় হবিগঞ্জের ৩টি বাস আটকে রাখে, যা আজও ছাড়েনি।
কর্মসূচি হবিগঞ্জ জেলার সকল অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট।
শুরু বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ (ভোর থেকে)।
প্রধান কারণ শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজারে হবিগঞ্জের ৩টি বাস আটক ও শ্রমিক নির্যাতন।
মূল পক্ষদ্বয় হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ বনাম মৌলভীবাজারের এসএমএস বাস মালিক সমিতি।
অন্যদিকে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ‘এসএমএস’ বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন।
তিনি উল্টো পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, বিষয়টি যখন সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের লোকজন শ্রীমঙ্গলে এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ হামলায় কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং একজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি আছেন।
তিনি আরও জানান, শ্রীমঙ্গলে কাউন্টারে হামলার জের ধরেই ক্ষুব্ধ স্থানীয় শ্রমিকরা বাসগুলো আটকে রেখেছেন এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই সংকট কাটাতে দ্রুত উভয় পক্ষকে নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।