১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইাধীন, বিভ্রান্তি ছড়াবেন না: আইনমন্ত্রী
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১০টি পাস হয়েছে। বাকি ১৬টি কেন উপস্থাপন করা হয়নি, তা নিয়ে সচিবালয়ে ব্যাখ্যা দিলেন আইনমন্ত্রী। গুম ও মানবাধিকার আইন নিয়ে নতুন বার্তা।
নয়াদিল্লি: গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ মানুষের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে রাজি নন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে ভারতের নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এএফপি এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন।
বুধবার প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছেন এবং চলমান বিচার প্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
শেখ হাসিনা জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের জন্য শোক জানালেও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর দাবি, সরকার উৎখাতের জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা চক্রান্ত করে অস্থিরতা তৈরি করেছিল।
দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে তিনি বলেন, “আমি নিহত প্রতিটি শিশু, ভাইবোন, আত্মীয় ও বন্ধুর জন্য শোক জানাই। তবে এজন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।” তিনি ব্যাপক প্রাণহানির জন্য মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর শৃঙ্খলা ভেঙে পড়াকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, “একজন নেতা হিসাবে আমি চূড়ান্তভাবে নেতৃত্বের দায় নিচ্ছি, কিন্তু আমি নিরাপত্তা বাহিনীকে ভিড়ের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম বা চেয়েছিলাম, এই দাবিটি পুরোপুরি ভুল।”
২০২৪ সালের ১৮ জুলাইয়ের একটি ফোন রেকর্ডিং প্রকাশ হয়েছিল, যেখানে তিনি তাঁর ভাতিজাকে ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এএফপির কাছে তিনি দাবি করেন, অডিওটির কথাগুলো ‘ভুলভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে, যদিও ‘চেইন অব কমান্ডের ভেতরে কিছু ভুল অবশ্যই হয়েছিল’ বলে তিনি স্বীকার করেন।
জাতিসংঘের স্বাধীন প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতা নিহত হয়। এই ঘটনায় প্রসিকিউটররা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ চেয়েছেন। আগামী ১৩ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ জানাবে ট্রাইব্যুনাল।
শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন, “ক্যাঙ্গারু কোর্টে মামলা চলছে, অপরাধী বানিয়ে রায় আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি অবাক বা ভীত হবেন না।
তাঁর অভিযোগ, তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি। এএফপিকে তিনি বলেন, মামলাগুলো কোনো প্রমাণসাপেক্ষে করা হয়নি এবং ট্রাইব্যুনালটি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দ্বারা গঠিত হয়েছে।
শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তাঁর অভিযোগ, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ‘অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার’ অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন না করে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে, যা লাখো মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হলে দলটির লাখ লাখ সমর্থক নির্বাচন বয়কট করবে।
হাসিনা বলেন, তাঁর দলকে বাদ দিয়ে হওয়া নির্বাচনের মাধ্যমে যেই সরকারই আসুক, তাদের সময়ে তিনি দেশে ফিরবেন না এবং ভারতেই অবস্থান করবেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের ভবিষ্যৎ ভূমিকা পালনে ফিরে আসবে, সেটা সরকারে হোক বা বিরোধী দলে। তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসা জরুরি। দেশের ভবিষ্যৎ কোনো একক ব্যক্তি বা পরিবার নির্ধারণ করে দিতে পারে না।”
রয়টার্স লিখেছে, নির্বাচন কমিশন গত মে মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে। ইউনূস সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা শুধু অন্যায় নয়, বরং আত্মঘাতী বলে মনে করেন শেখ হাসিনা।