মো. জিয়াউদ্দিন বাবু, বরিশাল: ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন এবং ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী যুবক দেশে ফিরে রোববার বরিশাল মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬ জনকে আসামি করে এই মামলা করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ মামলাটি এজাহার হিসেবে রুজু করার জন্য গৌরনদী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী রাসেল বেপারী (২৯) বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা এলাকার বারেক বেপারীর ছেলে।
মামলার আসামিরা হলো— গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের আক্কাস ফকিরের ছেলে ইলিয়াস ফকির (৫৫) ও টুটুল ফকির (৫২), মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার রায়হান মোল্লার ছেলে জেন্নাত মোল্লা (৪৩), তাঁর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (৩০), রহমান মোল্লার ছেলে লিটন মোল্লা (৩৫), শিবচর উপজেলার কেরানীবাট এলাকার ছামাদ খানের মেয়ে কুলসুম বেগম (৪২), শিবচরের বাজিতপুর শেখপুর সিকদার বাড়ির লাভলু সিকদারের মেয়ে হাফিজা (৩০), একই বাড়ির আসমত আলী সিকদারের ছেলে লাভলু সিকদার (৬০), বাঁশকান্দি ডিসি রোডের আতাউর রহমানের ছেলে আ. কুদ্দুস (৪৩) এবং পশ্চিম কাকর গ্রামের মো. সোবাহানের মেয়ে তানিয়া।
মামলার বরাতে ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী তুহিন মোল্লা জানান, আসামিরা রাসেল বেপারীর পূর্বপরিচিত হওয়ায় তাঁকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। আসামিদের কথায় বিশ্বাস করে বাদী আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে টুটুল ফকির, হাফিজা, লাভলু সিকদার ও তানিয়ার কাছে ১৫ লাখ টাকা হস্তান্তর করেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর রাসেল বেপারীকে প্রথমে শ্রীলঙ্কা নেওয়া হয়। সেখান থেকে সৌদি আরব, কুয়েত ও মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখে তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের সেই ভিডিও দেশে থাকা রাসেলের বাবা-মায়ের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। পরে বাধ্য হয়ে জমি ও সম্বল বিক্রি করে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ পরিশোধ করার পর রাসেল বেপারীকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।