স্পেনকে ফ্রান্সের ভয় পাওয়া উচিত: ইয়ামাল
চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) টেক্সাসের আর্লিংটনে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল স্পেন ও ফ্রান্স। বাংলাদেশ সময় রাত…
ক্রীড়া প্রতিবেদক, (মায়ামি): নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয়েছিল ১-১ গোলের সমতায়। ম্যাচ যত এগোচ্ছিল, আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের মনে তত চেপে বসছিল টাইব্রেকারের স্নায়ুচাপ। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে খোলস ছেড়ে বেরোলেন হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্টিনেজ। এই দুই স্ট্রাইকারের দুর্দান্ত দুটি গোলেই সুইজারল্যান্ডের প্রতিরোধ ভেঙে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
আর এই শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের মধ্য দিয়ে চলমান বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল (শেষ চার) নিশ্চিত করল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা বেশ সাবধানী ফুটবল খেলতে শুরু করে। বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণে উঠতে থাকে তারা। এই কৌশলের ফলও মেলে দ্রুত। ম্যাচের ১০ মিনিটেই গোলের দেখা পেয়ে যায় স্কালোনির দল। অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দারুণ এক হেডে সুইসদের জালে জড়ান মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টার (১-০)।
শুরুতেই গোল হজম করলেও দমে যায়নি সুইজারল্যান্ড। গোল খাওয়ার ধাক্কা সামলে তারা আর্জেন্টিনার সঙ্গে সমানতালে লড়তে থাকে। প্রথমার্ধেই বেশ কয়েকবার আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণভাগে ফাটল ধরিয়ে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল সুইস ফরোয়ার্ডরা।
তবে চূড়ান্ত ফিনিশিংয়ের অভাবে জালের দেখা পায়নি তারা। ফলে ১-০ গোলের ন্যূনতম লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
বিরতি থেকে ফিরে সুইজারল্যান্ড তাদের আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলস্বরূপ, ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে সমতায় ফেরান ড্যান এনদোয়ে। লেফট ব্যাক রিকার্দো রদ্রিগেজের বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি এই সুইস ফরোয়ার্ড (১-১)। সমতায় ফেরার পর বাকি সময়ে দুপক্ষই চেষ্টা করেও জালের দেখা না পেলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও কোনো গোল হয়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় আর্জেন্টিনার আসল জাদু। ম্যাচের ১১৪ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে, প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক বুলেট শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দেন ‘স্পাইডার’ খ্যাত ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ (২-১)।
সুইসরা যখন সমতায় ফিরতে মরিয়া, ঠিক তখনই তাদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন লাওতারো মার্টিনেজ। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে অসাধারণ এক গোল করে দলের ৩-১ গোলের জয় নিশ্চিত করেন এই ইন্টার মিলান তারকা। শেষ পর্যন্ত এই রোমাঞ্চকর জয় নিয়েই সেমিফাইনালের মঞ্চে পা রাখল স্কালোনির দল।