দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ার তাগিদ: প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ
রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নাব্যতা বৃদ্ধি ও বৃত্তাকার নৌপথ তৈরিতে নেওয়া পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা।
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে মাদকসেবীদের মারধরে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেন (৫৮) নিহত হয়েছেন। এ সময় হামলায় তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ মূল আসামিসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত আলতাব হোসেন এসবির ঢাকার মালিবাগ কার্যালয়ে এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়ায়। আহত ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬) রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়দেশির মদিনা সিটি এলাকায় আলতাব হোসেনের দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা রয়েছে, যা মূলত আলতাব হোসেন নিজেই দেখাশোনা করতেন। ওই এলাকার একটি ফাঁকা জায়গায় স্থানীয় ও আশপাশের বখাটে মাদকসেবীরা নিয়মিত আড্ডা দিত।
মামলার এজাহার ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে কারখানাসংলগ্ন একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে গাড়ি রাখা নিয়ে স্থানীয় এক বয়স্ক ব্যক্তির (কালাম) সঙ্গে বখাটেদের বাকবিতণ্ডা ও মারামারি হয়। তা দেখে এসআই আলতাব হোসেন এগিয়ে গিয়ে নিজের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করলে মাদকসেবীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়। পরে তিনি দৌড়ে কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন।
কিছুক্ষণের মধ্যে একটি প্রাইভেট কারে করে ৩০ থেকে ৩৫ জন হামলাকারী এসে কারখানার গেট ধাক্কা দিয়ে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা এসআই আলতাব হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলামের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ রবিবার দুপুরে ঢাকার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে (৩০) সাভারের নামাবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বড়দেশি এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে এবং ভাড়াচালিত গাড়ির ব্যবসা করেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে আজ বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে এসআই আলতাব হোসেনের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের রূপনাই গাছপাড়া গ্রামের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।