মালয়েশিয়ায় কাউকে তর্জনী দিয়ে দেখানো কেন অভদ্রতা?
মালয়েশিয়ায় তর্জনী দিয়ে কোনো কিছু নির্দেশ করাকে অভদ্রতা বা অসম্মানজনক মনে করা হয়। কেন সেখানে বুড়ো আঙুল ব্যবহার করা হয়, জেনে নিন।
ক্যারিয়ার: ‘আমার বস তো ছুটি দিতেই চান না’—চাকরিজীবীদের মুখে এই অভিযোগ বা আক্ষেপ নতুন কিছু নয়। অনেক প্রতিষ্ঠানেই কর্মীরা প্রয়োজনমতো ছুটি পান না বলে অভিযোগ করেন। তবে বসের সঙ্গে ঝগড়া করা বা আবেগের বশবর্তী হয়ে হুট করে চাকরি ছেড়ে দেওয়া কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। মানবসম্পদবিষয়ক প্রতিষ্ঠান করপোরেট কোচের মুখ্য পরামর্শক যিশু তরফদারের পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু কৌশল অবলম্বন করলে কাঙ্ক্ষিত ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।
ছুটি চাওয়া যেমন একজন কর্মীর অধিকার, তেমনি নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করাও তাঁর কাজের অংশ। বাংলাদেশের শ্রম আইন এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটিসংক্রান্ত নীতিমালা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা উচিত। চাকরিতে প্রবেশের আগেই কিংবা পরবর্তীতে বিস্তারিত জেনে নিলে ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকে না। কোন ছুটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিতে হয়, কোনটির ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা রয়েছে কিংবা লিভ উইদাউট পে (বেতনহীন ছুটি) ও ওভারটাইমের নিয়ম কী—তা জেনে রাখা জরুরি।
ছুটির আবেদন করার আগে কাজের ডেডলাইন বা নির্দিষ্ট তারিখের বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার। কোনো প্রজেক্ট বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ মাঝপথে ফেলে রেখে ছুটির আবেদন করা উচিত নয়। তবে পরিবারের জরুরি বিপদ বা অসুস্থতার মতো আকস্মিক ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করতে হবে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র (যেমন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র) জমা দিতে হবে।
ছুটি নিশ্চিত করার জন্য সহকর্মী ও বসের সঙ্গে সুসম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি। আপনি ছুটিতে থাকাকালীন কে আপনার দায়িত্ব সামলাবেন এবং অন্য কেউ ছুটি নিলে তাঁর দায়িত্ব পালনের মানসিকতা রাখা উচিত। ছুটির আবেদনের সঙ্গে নিজের কাজ কীভাবে শেষ করা হবে, তার একটি লিখিত পরিকল্পনা বসকে জমা দিলে সহজে অনুমোদন পাওয়া যায়। এছাড়া বছরের শুরুতেই সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে ছুটির একটি বার্ষিক পরিকল্পনা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
সব নিয়ম মেনে চলার পরও যদি কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া বস ছুটি দিতে না চান, তবে অতি আবেগপ্রবণ না হয়ে পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় মোকাবিলা করুন। অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ বসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাতে পারেন। তবে কোনোভাবেই অনুমোদন ছাড়া ছুটি কাটানো বা হুট করে চাকরি ছাড়ার মতো ভুল করা উচিত নয়, যা আপনার ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।