ঢাকা:রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) কার্গো শাখায় কর্মরত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মঈন উদ্দিনকে স্ট্যান্ড রিলিজ বা তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কার্গো কার্যক্রমে অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তাকে বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন শাখা থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক আদেশে মো. মঈন উদ্দিন (পি-৩৬৭৩৯)-কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শাখা থেকে বদলি করে ফার্মগেট, ডিজিএস, মতিঝিল, ঢাকায় পদায়ন করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সোমবার দুপুরে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এবং তাকে মঙ্গলবারের (৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন শাখার মহাব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত ওই আদেশে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই বদলি ও পদায়নের কথা জানানো হয়।
সম্প্রতি বিমানবন্দরের কার্গো কার্যক্রম ঘিরে পণ্য খালাস, নিরাপত্তা, নথিপত্র যাচাই, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি এবং পণ্য ছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে কার্গো শাখায় দায়িত্ব পালনকারী কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর মো. মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে। গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিমান কর্তৃপক্ষের এই বদলির সিদ্ধান্তকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঈন উদ্দিনকে কার্গো শাখা থেকে সরিয়ে অন্যত্র পদায়ন করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় বা স্বচ্ছ তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কেবল বদলি করে দিলেই কার্গো শাখার অনিয়মের সুরাহা হবে না। কার্গো এলাকায় পণ্য প্রবেশ, সংরক্ষণ, স্ক্যানিং ও পণ্য ছাড়ের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং এ ঘটনার পেছনে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।
বদলির আদেশে মো. মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এটি কেবল রুটিন প্রশাসনিক বদলি, নাকি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত—তা নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ঘটনার পর বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও নজরদারি আরও জোরদার করার জোরালো দাবি উঠেছে।