ভূমি অধিগ্রহণের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি এডিসি শামীম হুসাইনের
ভুল ও অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে ভূমি অধিগ্রহণের অভিযোগ তুলে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন ঢাকার এডিসি (এলএ) মো. শামীম হুসাইন।
বাগেরহাট: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব মামলার ৯৯ শতাংশের বাদী ছিল পুলিশ। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং পুলিশ বাদী হয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মামলা করছে না।
মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “মিথ্যা মামলার সংস্কৃতি বন্ধ হয়েছে। এখন আপনারা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন। পুলিশ বাদী হয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মামলা করছে না।”
তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিনা বিচারে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা ও গুম করা হয়েছে। তার দাবি, সাড়ে চার হাজারের বেশি বিএনপির নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা এবং সাতশর বেশি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। একইভাবে জামায়াতেরও অসংখ্য নেতাকর্মীকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গুম ও হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আসাদুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বর্তমানে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন। তার ভাষ্য, তারা অতীতে নিষ্ঠুরতার সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছিলেন। তাদের বিচার করতে ব্যর্থ হলে তা কাপুরুষতা ও ভীরুতার পরিচয় হবে।
“আমরা সেটা চাই না। আমরা দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই,” বলেন আইনমন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় মাদকের ভয়াবহতার বিষয়টিও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি প্রতিরোধে শুধু জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন কিংবা রাষ্ট্রের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
বাগেরহাটে মাদক প্রতিরোধে মসজিদের ইমামসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে দেশ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। মাদকের সঙ্গে কোনো বিএনপির নেতাকর্মী জড়িত থাকলেও তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, “মাদক প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব।”
মতবিনিময় সভায় বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলিম, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে আইনমন্ত্রী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে বিকেলে বাগেরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।