সৌদিতে হুথিদের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ
সৌদি আরবে হুথিদের হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬.১৯ ডলারে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবাদ-বিক্ষোভের দীর্ঘদিনের পরিচিত ও নির্ধারিত স্থান হিসেবে ব্যবহৃত ‘যন্তর-মন্তর’কে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি উচ্চপর্যায় কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতে এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। যন্তর-মন্তরের পরিবর্তে এখন থেকে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের জন্য নতুন তিনটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার কর্তৃক জারিকৃত নতুন আদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে দিল্লির নির্দিষ্ট এই তিনটি স্থানেই কেবল প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা যাবে:
রামলীলা ময়দান (Ramlila Maidan)
বুরারি ময়দান (Burari Maidan)
সিবিডি ময়দান (CBD Ground – পূর্ব দিল্লি)
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই নতুন তিনটি স্থানে জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য খুব শীঘ্রই পৃথকভাবে মানসম্মত কার্যপদ্ধতি বা এসওপি (SOP) প্রকাশ করা হবে।
বাতিলকৃত স্থান যন্তর-মন্তর (মধ্য দিল্লি)।
নতুন নির্ধারিত স্থান রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।
সিদ্ধান্তের নেপথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কমিটির সুপারিশ ও কেন্দ্রীয় পুলিশ প্রশাসন।
আদেশ জারি করেন দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার।
সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক বিতর্ক।
এতদিন মধ্য দিল্লির উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস ও ভবনের কাছাকাছি অবস্থিত যন্তর-মন্তর বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে সেখানে নিয়মিত বিক্ষোভের কারণে তীব্র যানজট ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটত। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ওই এলাকার যানজট অনেকটাই কমবে বলে আশা করছে প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) এবং ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কর্তৃক ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত বিতর্ক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মধ্য দিল্লিতে আয়োজিত বিক্ষোভের পরই এই পরিবর্তনটি তরান্বিত হলো।
এদিকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করতে শুরু করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। তাদের মতে, যন্তর-মন্তরের মতো ঐতিহ্যবাহী ও কেন্দ্রীয় স্থান বাদ দিয়ে শহরতলির বা দূরের ময়দানগুলো নির্ধারণ করার এই উদ্যোগ মূলত গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও প্রতিবাদ দমনেরই একটি সুদূরপ্রসারী প্রচেষ্টা।