সৌদিতে হুথিদের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ
সৌদি আরবে হুথিদের হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬.১৯ ডলারে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক: সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও স্থাপনা লক্ষ্য করে সম্প্রতি দফায় দফায় হুথি বিদ্রোহীদের মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দেশটির ওপর কঠোর ভ্রমণ সতর্কতা (Travel Advisory) জারি করেছে বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী দেশ। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডও তাদের নাগরিকদের সৌদি আরবে ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নজিরবিহীন প্রাণঘাতী হামলার পরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
সৌদির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে:
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড: অস্ট্রেলিয়ার বৈদেশিক ও বাণিজ্য বিভাগ নাগরিকদের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এড়িয়ে চলা এবং অন্যান্য সৌদি বিমানবন্দরে ভ্রমণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর, নাজরান, জাজান এবং আসির প্রদেশে যেকোনো ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে বলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা: রিয়াদের মার্কিন দূতাবাস ইরান ও হুথি বিদ্রোহীদের সম্ভাব্য হুমকির কথা উল্লেখ করে নাগরিকদের সৌদি ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। কানাডার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সও সৌদির যেকোনো স্থানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ না করার সতর্কতা জারি করেছে।
যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়া: যুক্তরাজ্য জেদ্দা ও দাম্মাম শহরে ভ্রমণ এড়াতে এবং মদিনা বিমানবন্দর বাদে অন্য বিমানবন্দরগুলোতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া জরুরি কাজ ছাড়া তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে সৌদি আরব ছেড়ে চলে যাওয়ার এবং নতুন ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে।
আক্রমণের মূল লক্ষ্য রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
দায়ী গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহী (সাম্প্রতিক চারটি হামলার দায় স্বীকার)।
সবচেয়ে বড় হামলা শনি ও রবিবারে পরপর দুটি মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা (নিহত ১৪, আহত তিন শতাধিক)।
সতর্কতা জারি করা দেশসমূহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।
গত এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে অন্তত পাঁচটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত রোববার (১১ অক্টোবর) একই বিমানবন্দরে আরেকটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আরও ১ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন।
গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবের মাটিতে এটিই সবচেয়ে মারাত্মক ও বড় ধরনের হামলার ঘটনা। যদিও রোববারের হামলার দায় কোনো পক্ষ সরাসরি স্বীকার করেনি, তবে এর আগের ধারাবাহিক চারটি হামলার দায় স্বীকার করেছিল ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ধারাবাহিক এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।