ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ: ট্রাম্পের নীরবতায় যুদ্ধের শঙ্কা
২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বৈঠক। যুদ্ধবিরতির ১০ দিন বাকি থাকতেই ট্রাম্পের নীরবতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ।
কৃষি ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশকে নেদারল্যান্ডসের মতো কৃষিতে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বাড়াতে হবে। সীমিত জমিতে উৎপাদন দ্বিগুণ–তিনগুণ বাড়ানো সম্ভব হলেও ক্ষুদ্র কৃষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) আয়োজিত কৃষি ও খাদ্যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার সম্মেলনের এক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা তুলে ধরেন।
কৃষিতে প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের গুরুত্ব: শফিকুল আলম বলেন, নেদারল্যান্ডস ছোট দেশ হয়েও বছরে ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানি করে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি লক্ষ্য হতে পারে। তবে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, ক্ষুদ্র কৃষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে:
প্রতিটি গ্রামে ছোট আকারে কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা গড়তে হবে।
নতুন বাজার এবং রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি চীন–যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন সংকটের সময়ে বাংলাদেশের সয়াবিন আমদানিকে ‘নতুন ধরনের ফরেন পলিসি অ্যাপ্রোচ’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে কৃষি কীভাবে প্রভাব ফেলে তা প্রমাণ করে।
প্রেস সচিব জানান, দেশের ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় পাট শিল্পে বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। চীনা উদ্যোক্তারা আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে বাংলাদেশে এক মিলিয়ন টন পাট প্রক্রিয়াকরণ, বায়োফার্টিলাইজার, এনার্জি ও সাশ্রয়ী প্লাস্টিকের বিকল্প তৈরি করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, পুরনো কষ্টকর জুট রেটিং (পচানো) পদ্ধতির কারণে অগ্রগতি নেই। কিন্তু সঠিক প্রযুক্তি যুক্ত হলে পাট আবারও বৃহৎ বৈশ্বিক বাজার দখল করতে পারবে।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ প্রসঙ্গে তিনি ড. নাওমি হোসেনের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সেই দুর্ভিক্ষে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। তৎকালীন সরকারের অদক্ষতা, দুর্বল রিজার্ভ এবং বৈশ্বিক কৃষিপণ্যের রাজনীতির কারণে সংকট তীব্র হয়েছিল।
শফিকুল আলম সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে ৬–৮ মিলিয়ন টন খাদ্য ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। তাই খাদ্য নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী রিজার্ভ, পর্যাপ্ত স্টক (বর্তমান ২০ লাখ টন থেকে ৫০ লাখ টনে উন্নীত করা উচিত) এবং দ্রুত আমদানির সক্ষমতা অপরিহার্য।
তিনি কৃষি জমি নষ্ট করে আবাসন বিস্তারের সমালোচনা করে পরিকল্পিত গ্রাম–উন্নয়নের ওপর জোর দেন এবং কৃষিজমি ও কৃষককে সুরক্ষা দেওয়াকে আগামী সরকারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে স্থির করার আহ্বান জানান।