স্থানীয় সরকার বিভাগে ১৭ বছরের দুর্নীতি খুঁজবে ৭ সদস্যের কমিটি
স্থানীয় সরকার বিভাগে ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১৭ বছরের অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন। ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ। বিস্তারিত জানুন দৈনিক শব্দমিছিলে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরের (আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে) অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার। তবে এই তদন্ত কমিটির কার্যক্রম ঘোষণার দিনই তৈরি হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই জোরপূর্বক প্রকল্প ফাইল পাসের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর এই গুরুতর অভিযোগের জবাবে সেই নির্দিষ্ট ফাইল জনগণের সামনে প্রকাশের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও এই ‘চলেঞ্জ’ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যদি সৎসাহস থাকে, তাহলে আগামীকাল রোববারের মধ্যে ফাইলটা জনগণের সামনে উত্থাপন করবেন।’
আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই অভিযোগ তোলেন। পরে সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে এ ব্যাপারে দীর্ঘ বক্তব্য দেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। উল্লেখ্য, তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে বর্তমান সরকার গঠিত কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে আজ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে আসিফ মাহমুদ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “একটা ফাইল আমার নজরে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একজন উপদেষ্টা সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই জোর করে ফাইল নিয়ে এসে নিজে স্বাক্ষর করে অনুমোদন দিয়েছেন। এটা তদন্তে আসবে। যেটি একেবারে রুলস অব প্রসিডিওর ও রুলস অব বিজনেসের পরিপন্থী।”
প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের সই ছাড়া কখনোই মন্ত্রী বা উপদেষ্টা একটি ফাইল অনুমোদন দিতে পারেন না। এটি কখনোই আইনে নেই।” পরে সাংবাদিকদের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সাবেক ওই উপদেষ্টার নাম আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই এর বেশি বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের এই বক্তব্যের পর আজ সন্ধ্যায় ২৪ মিনিটের একটি ফেসবুক লাইভে আসেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। সেখানে সচিবালয়ের ফাইল ও প্রকল্প অনুমোদনের জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রক্রিয়াটা না বুঝলে যে অভিযোগ আনা হলো, সেটা বোঝা মুশকিল হবে। তাঁরা (মীর শাহে আলম) মাত্র তিন মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছেন। হয়তো প্রক্রিয়াটা এখনো বুঝে উঠতে পারেননি। আপস্ট্রিমে কোনো ফাইল সচিবের স্বাক্ষর ছাড়া উপদেষ্টা বা মন্ত্রীর টেবিলে আসাই সম্ভব নয়, অনুমোদন দেওয়া তো অনেক দূরের আলাপ।”
আসিফ মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, সচিবের অনুপস্থিতিতে বা স্বাক্ষর ছাড়া ফাইল পাসের যে দাবি করা হচ্ছে, সেটির আরও স্পষ্টতা (ক্ল্যারিটি) প্রয়োজন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মাঝেমধ্যে সচিব বিদেশে সফরে থাকলে সাধারণত জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে একজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিবের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন তিনি এই ফাইল ওয়ার্কগুলো করে থাকেন। ফলে সচিবের অনুপস্থিতিতে হলেও অতিরিক্ত সচিবের অবশ্যই স্বাক্ষর থাকার কথা, যা সম্পূর্ণ আইনগতভাবে বৈধ।
রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার জন্যই প্রতিমন্ত্রী তাঁর নাম জড়াতে পারেন উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমার কোনো অপরাধ থাকলে আমাকে অ্যাকাউন্টেবল (জবাবদিহির আওতায় আনা) করবে, বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিষ্কারভাবে দেখাবে যে কোন ফাইলে এই অনিয়মটা হয়েছে।”
লাইভের শেষাংশে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, “মিস্টার শাহে আলমকে আমি চ্যালেঞ্জ করছি, যদি সৎসাহস থাকে, তিনি যদি নিজের বক্তব্যে স্ট্যান্ড করেন, তাহলে আগামীকাল রোববারের মধ্যে ফাইলটা জনগণের সামনে স্পষ্ট করবেন ও উত্থাপন করবেন। আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও চ্যালেঞ্জ করছি। যদি তাঁরা এটা পাবলিক না করেন, তাহলে আমি মনে করব আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ ও হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য তাঁরা এটা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসুন, কোথায় বেআইনি কী হয়েছে। আই এম চ্যালেঞ্জিং, লেট’স ফেইস ইট।”