সংসদ ও রাজপথে একযোগে আন্দোলন চলবে: রাজশাহীতে শফিকুর রহমান
রাজশাহীর ১১-দলীয় সমাবেশে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্য। ১৬ অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি।
নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের জেরে অবশেষে মৌলভীবাজারের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে (হেডকোয়ার্টার্স) সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে দেশের ১২টি জেলায় নতুন পুলিশ সুপার পদায়ন করা হয়েছিল। ওই আদেশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকর্তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিতর্কের মুখে গত কয়েক দিনে মৌলভীবাজারসহ মোট ৩টি জেলার এসপিকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলো প্রশাসন। মৌলভীবাজারের আগে একইভাবে সরানো হয়েছে ফেনী ও পঞ্চগড়ের এসপিকেও।
গত ৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে মাহবুব আলম খানকে ফেনীর এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়। তবে এই পদায়নের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, তিনি দুটি হত্যা মামলার আসামি থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত সংবেদনশীল জেলা ফেনীর এসপি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এই ঘটনায় গত ৭ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। রিটে ওই কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল, সাময়িক বরখাস্ত ও পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়। তীব্র ক্ষোভের মুখে গত ১১ মে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়।
একই দিনে (১১ মে) প্রত্যাহার করা হয় পঞ্চগড়ের এসপি মিজানুর রহমানকে। বিসিএস পুলিশের ২৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণ আচরণের অভিযোগে বিভাগীয় শাস্তি দিয়েছিল সরকার। ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শাস্তি হিসেবে তাঁর এক বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত করা হয়েছিল। এমন একজন দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় জেলার এসপি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় উঠলে তাকেও দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
ফেনী ও পঞ্চগড়ের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ১৩ মে থেকে মৌলভীবাজারের নবনিযুক্ত এসপি রিয়াজুল ইসলামকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। বিতর্কের তীব্রতা বাড়ায় গত শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তাঁকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হয়।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা ওই আদেশে বলা হয়, ‘আপনি মৌলভীবাজার জেলার পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার অর্পণ করে ১৬ মে শনিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকায় রিপোর্ট করবেন।’ তবে প্রথা অনুযায়ী এই আদেশেও প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এই গণ-প্রত্যাহারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সদর দপ্তরের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, যথাযথ যাচাই-বাছাই (Vetting) ছাড়া জেলা পুলিশ সুপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। নিয়োগের আগে কর্মকর্তাদের অতীত ট্র্যাক রেকর্ড ও অভিযোগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনৈতিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো কর্মকর্তাই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি।
এদিকে, একের পর এক জেলা থেকে এসপি প্রত্যাহারের ঘটনায় বিগত সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী বা বিভিন্ন জেলায় বিতর্কিত ভূমিকা পালন করা পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অস্বস্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।