ইরানের ওপর নৌ অবরোধের ইঙ্গিত দিলেন
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানের ওপর নৌ অবরোধের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করা প্রতিবেদনের বিস্তারিত জানুন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের অমীমাংসিত সংকটের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন সব ইস্যু। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির প্রেক্ষাপট থেকে বর্তমানের হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ—দুই দেশের সম্পর্কের পারদ এখন ইতিহাসের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মাঝেই শনিবার ইসলামাবাদে টেবিলে বসেছিল দুই পক্ষ। কিন্তু ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ায় এখন বড় প্রশ্ন—কূটনীতি কি তবে হার মেনে নিল?
বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর তেহরানের পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এই যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি রক্তক্ষরণকারী ইস্যু।
ইসলামাবাদের ব্যর্থ আলোচনার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের কথায় কিছুটা আশার আলো দেখা গেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনও আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং ইরান চাইলে ফিরতে পারে। কিন্তু রহস্যজনক নীরবতা পালন করছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তাঁর এই নীরবতা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। কারণ কয়েকদিন আগেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি দিয়েছিলেন—“একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে।” ট্রাম্পের এই নীরবতাকে অনেকে ‘প্রচণ্ড চিৎকারের’ মতো অনুভব করছেন, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় কোনো সামরিক ঘোষণার ইঙ্গিত হতে পারে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ এখনও ১০ দিন বাকি। ইসরায়েল ছাড়া পাকিস্তানসহ গোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চাইছে এই সময়ের মধ্যে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে। তবে ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সেই সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ।
সংঘাতের সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট:
২৮ ফেব্রুয়ারি: ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা।
গত মঙ্গলবার: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার সিদ্ধান্ত।
শনিবার: ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই সমাপ্ত।
যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য কি পুনরায় বড় কোনো ধ্বংসযজ্ঞের দিকে ফিরে যাবে, নাকি শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের কোনো ‘চমক’ পরিস্থিতি বদলে দেবে—আগামী কয়েক ঘণ্টাই তা নির্ধারণ করবে।