বিশ্বকাপের মাঠেই দুঃসংবাদ, ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি আশরাফ হাকিমি
ক্রীড়া প্রতিবেদক: চলতি বিশ্বকাপের মাঠেই বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেলেন মরক্কো ফুটবল দলের অধিনায়ক ও পিএসজি তারকা আশরাফ হাকিমি। ২০২৩ সালের একটি ধর্ষণ মামলায় তার…
খেলাধুলা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে পর্দা উঠেছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের। বিশ্বমঞ্চের এই আসরে এবারই প্রথম রেকর্ড ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে, যা বিশ্ব ক্রীড়াজগতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আয়োজন। ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে টানটান উত্তেজনা আর উম্মাদনা। আর এই ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরেই ইতিহাসে জড়িয়ে আছে নানা রোমাঞ্চকর ও অদ্ভুত সব গল্প। এমনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছিল ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফি চুরি যাওয়া নিয়ে, যা শেষ পর্যন্ত মানুষের পুলিশ নয়, উদ্ধার করেছিল একটি চতুর পোষা কুকুর!
বিশ্বকাপের ট্রফি চুরি! ঘটনাটি ১৯৬৬ সালের। সেবার ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ছিল ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্ট শুরু হতে তখনো মাত্র কয়েক মাস বাকি, দেশজুড়ে চলছে জোর প্রস্তুতি। এরই মধ্যে লন্ডনের একটি নামী প্রদর্শনীতে সাধারণ মানুষের দেখার জন্য রাখা হয়েছিল ফিফার আসল ট্রফিটি—যা ফুটবল ইতিহাসে ‘জুলে রিমে ট্রফি’ (Jules Rimet Trophy) নামে পরিচিত। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্য থেকেই আচমকা চুরি হয়ে যায় সেই মহামূল্যবান সোনালী ট্রফি।
পুলিশ যখন ব্যর্থ: বিশ্বকাপের আসল ট্রফি চুরির এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে তৎকালীন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং আয়োজক দেশ ইংল্যান্ড। ঘটনার তদন্তে নামে লন্ডনের বিখ্যাত গোয়েন্দা পুলিশ ‘স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড’। চারদিকে হুলস্থুল পড়ে গেলেও, দিনরাত এক করে তল্লাশি চালিয়েও ট্রফির কোনো হদিস বা সূত্র মেলাতে পারছিল না বাঘা বাঘা গোয়েন্দারা।
দৃশ্যপটে ‘পিকলস’ নামের এক কুকুর: চুরির ঘটনার ঠিক সাত দিন পর, বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দৃশ্যপটে হাজির হয় ‘পিকলস’ নামের একটি সাধারণ পোষা কুকুর। দক্ষিণ লন্ডনের একটি পার্কের পাশে মালিকের সাথে প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বেরিয়েছিল সে। হঠাৎ করেই রাস্তার ধারের একটি ঝোপঝাড়ের দিকে নজর যায় পিকলসের। সেখানে অস্বাভাবিক কিছু একটা দেখে সে অনবরত ঘেউ ঘেউ করতে শুরু করে এবং মালিককে টেনে নিয়ে যায়।
পিকলসের মালিক ডেভিড করবেট কুকুরের এমন আচরণে কৌতূহলী হয়ে ঝোপের ভেতরে তাকান। সেখানে তিনি খবরের কাগজে শক্ত করে মোড়ানো একটি ভারী বস্তু দেখতে পান। কাগজটি কিছুটা ছিঁড়ে ভেতরে তাকাতেই তাঁর চোখ চড়কগাছ! খবরের কাগজের ভেতরে জ্বলজ্বল করছে নিখোঁজ হওয়া সেই আসল বিশ্বকাপ ট্রফি।
রাতারাতি তারকা ‘পিকলস’: উদ্ধারের পর মালিক ডেভিড দ্রুত পুলিশকে খবর দেন এবং ট্রফিটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। যে ট্রফি খুঁজে পেতে পুরো লন্ডনের পুলিশ ব্যর্থ হয়েছিল, তা মাত্র সাত দিনে খুঁজে বের করে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে তারকা বনে যায় কুকুর ‘পিকলস’।
মজার ব্যাপার হলো, সে বছর ফাইনালে জার্মানিকে হারিয়ে ইংল্যান্ড যখন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে, তখন ট্রফি জয়ের সেই রাজকীয় নৈশভোজে পিকলসকে ‘ভিআইপি অতিথি’ হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পুরস্কার হিসেবে তাকে দেওয়া হয়েছিল মেডেল এবং বছরজুড়ে ফ্রি ডগ ফুডের লোভনীয় অফার! ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই চুরির ঘটনা এবং কুকুর পিকলসের বীরত্বগাথা আজও এক অনন্য ও মজার অধ্যায় হয়ে আছে।