আলজিয়ার্সে বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই শহীদ দিবস পালিত
আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচির শুরুতে…
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) হাইকমিশন মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের পর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বিশেষ বাণী পড়ে শোনানো হয় অনুষ্ঠানে।
আলোচনা সভায় ইসলামাবাদে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক ও হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পাথফাইন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যান ইকরাম সেহগাল, ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো সাবেক রাষ্ট্রদূত আসিফ আলী খান দুররানি, এনইউএসটি ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের অধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জাহিদ মাহমুদ, ম্যারিয়ট হোটেলের পরিচালক আমনা সালমান কাদির এবং জং গ্রুপের বিশেষ প্রতিবেদনের সম্পাদক এম সালেহ জাফির।
আলোচকেরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের অসামান্য আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তারা উল্লেখ করেন, এই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেমন বড় অগ্রগতি হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও আগের চেয়ে অনেক জোরদার হয়েছে। বক্তারা বলেন, এই অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন ছিল না; এটি ছিল সাধারণ মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও সাহসের ফসল। জুলাইয়ের চেতনা আমাদের একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে অনুপ্রাণিত করে।
হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ সকল বীর শহীদ ও আহতদের অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সেই রক্তঝরা দিনগুলো এবং সাধারণ মানুষের রাজপথে নেমে আসার ইতিহাস আমাদের সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শেখায়। শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন এবং সব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। অনুষ্ঠান শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।