ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে এক প্রেমিক-প্রেমিকার আত্মহত্যার পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে অত্যন্ত নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য মোড় নিয়েছে। সামাজিক ও পারিবারিক টানাপোড়েনের জেরে একসাথে মৃত্যুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে যমুনা নদীর ওপর নির্মিত সেতুতে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রেমিকার করা চরম বিশ্বাসভঙ্গ ও নাটকীয়তায় শুধু প্রেমিকই উত্তাল নদীতে ঝাঁপ দেন, আর প্রেমিকা অপর প্রান্ত থেকে অলক্ষ্যে হেঁটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে ভাগ্য সহায় থাকায় উপস্থিত জনতার তৎপরতা এবং পুলিশ ও স্থানীয় ডুবুরিদের দ্রুত উদ্ধার অভিযানের কারণে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন ওই যুবক। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রয়াগরাজের ঐতিহাসিক নিউ যমুনা ব্রিজে এই চোখধাঁধানো ঘটনাটি ঘটে।
ভারতীয় শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, আনু গুপ্তা নামে এক স্থানীয় যুবকের সাথে এক তরুণীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিক অস্বীকৃতির কারণে তারা দুজনে আগে থেকেই একসাথে বিষপান বা আত্মহত্যার একটি চূড়ান্ত পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে গতকাল দুপুরে তারা দুজনে নিউ যমুনা ব্রিজের ওপর পৌঁছান এবং সেখানে বেশ কিছুক্ষণ আবেগঘন কথাবার্তা বলেন। কথা বলার একপর্যায়ে প্রেমিকা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই আনু গুপ্তা আচমকা রেলিং টপকে নিচে যমুনা নদীতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু চোখের সামনে প্রেমিককে নদীতে পড়তে দেখেও ওই তরুণী নিজে আর নদীতে ঝাঁপ না দিয়ে শান্ত মাথায় ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকেন এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।
সেতুর ওপর থাকা অন্যান্য পথচারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এই ভয়াবহ দৃশ্য সশরীরে দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানায় খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই উত্তর প্রদেশ পুলিশের একটি বিশেষ দল এবং স্থানীয় পেশাদার ডুবুরিদের উদ্ধারকারী দল স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত অভিযান শুরু করে। বেশ কিছু সময়ের রুদ্ধশ্বাস ও আপ্রাণ চেষ্টার পর আনু গুপ্তাকে নদী থেকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন ডুবুরিরা। নদী থেকে তোলার পর তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া ও কাউন্সেলিং শেষে আনু গুপ্তাকে তাঁর পরিবারের কাছে নিরাপদ হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। তবে রোমহর্ষক এ ঘটনার পেছনের মূল কারণ এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের গভীরতা জানতে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। পাশাপাশি, ঘটনার সময় প্রেমিকের সাথে থাকা সেই রহস্যময়ী তরুণীর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং শেষ মুহূর্তে তাঁর এমন ভূমিকার কারণ জানতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।