একসাথে মরার কথা বলে যমুনায় ঝাঁপ প্রেমিকের, পালিয়ে গেলেন প্রেমিকা
ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে নিউ যমুনা ব্রিজে নাটকীয় ঘটনা। একসাথে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিলেন প্রেমিক আনু গুপ্তা, প্রেমিকা পলাতক।
পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে বড় ধরনের অতর্কিত হামলায় অন্তত ৪৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘বেলুচিস্তান পোস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রদেশের মস্তুং এলাকার কাছে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) ইতিমধ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। চলতি মাসে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি চতুর্থ এবং গত দুই সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় বড় ধরনের হামলার ঘটনা।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে বিএলএ-র মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তাদের বিশেষ ‘ফাতেহ স্কোয়াড’ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই অভিযানটি চালিয়েছে। তারা মূল নিরাপত্তা বহরের পাশাপাশি পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে আসা অতিরিক্ত সেনা দলকেও লক্ষ্য করে হামলা চালায়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীটি উল্লেখ করেছে।
বেলুচিস্তানে একের পর এক সমন্বিত হামলার জেরে চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন শাবান’ নামে একটি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এর আগে জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় এক হামলায় ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং লাসবেলায় ১১ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর এবং বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান চালাচ্ছে, যেখানে বিমানবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাও সহায়তা করছে। এই হামলার জবাবে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ঘটনার পেছনে দায়ীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে এবং জঙ্গিদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হলেও বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম অনগ্রসর ও স্বল্প জনসংখ্যার প্রদেশ। দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রদেশটি ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত। এছাড়া চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় নির্মিত গভীর সমুদ্রবন্দর ‘গাওয়াদর’ এই প্রদেশেই অবস্থিত। এর ফলে অঞ্চলটি যেমন পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তেমনি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলার পর একটি চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখবে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে বিএলএ এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বেশ কয়েকটি বড় হামলা চালায়, যার ফলে পুরো বেলুচিস্তান জুড়ে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।