রাষ্ট্রপতি নিয়োগের যোগ্যতা ও বৈশ্বিক গুরুত্ব : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান
যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সাংবিধানিক প্রজ্ঞা, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে সফলভাবে তুলে ধরতে দক্ষ রাষ্ট্রপতির গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয় নিবন্ধ।
বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি সংকট এক সংকটময় মুহূর্তে উপনীত হয়েছে। মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে বয়লার বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনার পর গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের শিল্প, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গৃহস্থালি খাতে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দৈনিক ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ২১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে।
এই তীব্র ঘাটতি দূরীকরণে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ—বিশেষ করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া পাওয়া নিঃসন্দেহে এক সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এই সাময়িক সমাধান প্রচেষ্টার পাশাপাশি সংকটটির নেপথ্য দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
একটি মাত্র এফএসআরইউ বিকল হওয়ার ফলে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ চাহিদার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা আমাদের জাতীয় গ্রিডের আমদানিনির্ভর সংবেদনশীলতাকে উন্মোচিত করে।
তৈরি পোশাক ও রফতানিমুখী ভারী শিল্প কারখানায় গ্যাস ক্যাপটিভ পাওয়ার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জনজীবনকে দুর্ভোগে ফেলছে।
রাজধানীর বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নার গ্যাস সংকট নাগরিক জীবনকে স্থবির করে দিয়েছে।
মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস থেকে জরুরি এলএনজি আমদানি কিংবা বিকল্প ব্যবস্থার আশ্বাস স্বল্পমেয়াদে কিছু স্বস্তি দিলেও, ভবিষ্যতে এ জাতীয় দুর্ঘটনা বা বৈশ্বিক সংকটের ধকল সইতে দেশের ভেতরে নীতিগত সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।
এক্সেলারেট এনার্জি ও দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তায় দ্রুততম সময়ে মহেশখালীর টার্মিনালটি সচল করতে হবে।
দুটি মাত্র ভাসমান টার্মিনালের ওপর পুরো আমদানিনির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
কেবল আমদানিনির্ভর না হয়ে দেশীয় স্থলভাগ ও বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে গতি আনতে হবে।
ভোলা গ্যাস ক্ষেত্রের বিদ্যমান প্রাকৃতিক গ্যাসকে পাইপলাইন বা বিকল্প উপায়ে জাতীয় গ্রিডে দ্রুত যুক্ত করার উদ্যোগ কার্যকর করতে হবে।
পরিবেশবান্ধব সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে হবে। স্পট মার্কেট বা একক উৎসের ওপর নির্ভর না করে একাধিক দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি সরবরাহ চুক্তি জোরালো করা প্রয়োজন।
পরিশেষে বলা যায়, আন্তর্জাতিক কূটনীতির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যাগ প্রশংসনীয়। তবে একটি দেশের স্থায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। সাময়িক সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য শক্তির সম্প্রসারণ এবং টেকসই জ্বালানি পরিকাঠামো নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।