ঢাকা: বর্তমান সরকারকে আন্দোলন করে রাতারাতি পতন বা উৎখাত করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁদের নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, আমরা এই সরকারকে আন্দোলন করে আগামীকালকেই পতন করতে চাই না। উৎখাতের কোনো আন্দোলন আমরা করছি না।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসন্ন লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি ও রূপরেখা তুলে ধরতে ১১ দলীয় ঐক্যের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে লংমার্চের সার্বিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার জানান, কর্মসূচিকে সুশৃঙ্খল ও গতিশীল করতে বিশেষ কৌশল নেওয়া হয়েছে। কোনো একটি স্থানে পথসভা চলাকালীন অগ্রবর্তী একটি টিম দ্রুত পরবর্তী স্পটে চলে যাবে এবং সেখানে বক্তব্য দেওয়ার পর মূল শীর্ষ নেতারা পরবর্তীতে ওই স্পটে গিয়ে যুক্ত হবেন। এর মাধ্যমে মূলত অপচয় রোধ ও সময় সাশ্রয় করা হবে।
লংমার্চের সম্ভাব্য পথসভাগুলোর স্থান ঘোষণা করে তিনি জানান, ঢাকার চিটাগাং রোডের কাঁচপুর ব্রিজের পাশের ট্রাকস্ট্যান্ডে প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ক্রমানুসারে পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, কুমিল্লার নূরজাহান হোটেলের সামনে, চৌদ্দগ্রাম, মহিপাল ও মিরসরাইয়ে পথসভা শেষে সম্পূর্ণ গাড়িবহর চট্টগ্রামের লালদীঘির উদ্দেশে যাত্রা করবে।
পথিমধ্যে যানজট বা গাড়ির কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির মতো স্বাভাবিক ব্যতিক্রম বাদ দিলে, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই গাড়িবহর লালদীঘিতে গিয়ে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা।
লংমার্চকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে বিশেষ কিছু ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার জানান, লংমার্চে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে একটি করে ডেলিগেট কার্ড প্রদান করা হবে। এছাড়া প্রতিটি গাড়ির সামনে ও পেছনে নির্দিষ্ট স্টিকার ও নম্বরযুক্ত থাকবে। দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক বিভাগ, আইটি এবং মেডিকেল টিমের গাড়িগুলো সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলায় বহরের নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে থাকবে।