২২৮ বছরের পুরোনো লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ ‘রুলস’, যেখানে অতিথি হয়েছিলেন ডিকেন্স থেকে ম্যাডোনা
লন্ডনের সবচেয়ে পুরোনো রেস্তোরাঁ ‘রুলস’-এর ২২৮ বছরের ইতিহাস, যেখানে চার্লস ডিকেন্স ও ম্যাডোনার মতো তারকারা এসেছিলেন। জেমস বন্ড সিনেমাতেও এটি দেখা গেছে।
শত শত বছর ধরে চলে আসা বৈষম্যমূলক ও বিকৃত ভৌগোলিক মানচিত্র বদলে যাওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রচলিত বিশ্ব মানচিত্রে ইউরোপ ও উত্তর যুক্তরাষ্ট্রকে বিশাল আয়তনে দেখানো হলেও ছোট করে উপস্থাপন করা হতো আফ্রিকা ও এশিয়ার মতো মহাদেশগুলোকে। মানচিত্রের এই দীর্ঘদিনের আয়তনগত বৈষম্য দূর করতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পেশ করা এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব ১৬৪-১ ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাস হয়েছে।
১৫৬৯ সালে ইউরোপীয় নাবিকদের সোজা পথে দিকনির্ণয়ের সুবিধার জন্য বিশ্ব মানচিত্র তৈরি করেছিলেন জেরার্ডাস মারকেটর। তবে দিক ঠিক রাখতে গিয়ে এই মানচিত্রে বিষুবরেখা থেকে দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভূখণ্ডের আকার অস্বাভাবিকভাবে বড় দেখা যায়।
মারকেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকাকে প্রায় সমান মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে আফ্রিকা মহাদেশ গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিকৃত মানচিত্রের কারণে শিক্ষাব্যবস্থায় ও মানুষের মনস্তত্ত্বে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রভাব অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আফ্রিকাকে একটি প্রান্তিক অঞ্চল হিসেবে তুলে ধরেছিল।
২০১৮ সালে প্রকাশিত ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ (Equal Earth Projection) মানচিত্র প্রতিটি দেশের প্রকৃত আয়তন ও ভূখণ্ডের সঠিক অনুপাত তুলে ধরে। আফ্রিকার দেশ টোগোর নেতৃত্বে আফ্রিকা ইউনিয়ন (AU) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২০১৮ সালের উদ্ভাবিত এই মানচিত্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের প্রস্তাব পেশ করে।
প্রস্তাবটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৬৪টি দেশের সমর্থনে পাস হয়। একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভোট দেয় এবং ৬টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসাই বলেন, “এই অনুমোদনটি আফ্রিকা ও গোটা বিশ্বের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি বিশ্বকে আরও নির্ভুল, ভারসাম্যপূর্ণ এবং ভৌগোলিকভাবে বিশ্বস্ত হিসেবে উপস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকে নিশ্চিত করে। মানচিত্র একটি প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম হলেও, মানুষ মহাদেশগুলোকে কীভাবে দেখবে তা নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
প্রস্তাব সমর্থনের পাশাপাশি জাতিসংঘ-সমর্থিত নতুন মানচিত্রে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখসহ নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ডকে ভারতের সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী সঠিকভাবে চিত্রায়িত করার দাবি জানিয়েছে দেশটি। কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর মানচিত্র গ্রহণযোগ্য হবে না বলে সতর্ক করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে ইউক্রেন প্রস্তাবকে সমর্থন জানালেও তাদের দখলকৃত অঞ্চলের চিত্রায়ন নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের এই প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রচলিত মারকেটর মানচিত্র পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা না হলেও বিশ্বের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০১৮ সালের নতুন মানচিত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ নতুন ভূগোল পাঠ্যবই ও প্রযুক্তিগত জিপিএস (GPS) সিস্টেমে নতুন এই মানচিত্র অন্তর্ভুক্তির কাজ শুরু হচ্ছে।