‘ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি’ তত্ত্ব ও বাস্তবতার খতিয়ান
বর্তমান সরকারের অর্থ উপদেষ্টার ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি’ দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পালের বিশদ বিশ্লেষণ ও মতামত।
অর্থনীতি ও কূটনৈতিক: দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার আন্তদেশীয় ট্রেন—মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বার্ষিক আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী ইন্টার-সরকারাল রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম) শুরু হতে যাচ্ছে। বৈঠকে উভয় দেশ একমত হলে আগামী মাস থেকেই ট্রেনগুলো আবার চালুর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তীতে উভয় দেশের ভিসা প্রদানে কড়াকড়ির কারণে ট্রেনগুলোর চলাচল স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারি থেকে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করায় এবং উভয় পক্ষই ট্রেন চালুর আগ্রহ প্রকাশ করায় এবার আইজিআরএম বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
নতুন রুট ও প্রস্তাবনা:
শুধু পুরোনো ট্রেন চালু করাই নয়, এবারের বৈঠকে বেশ কিছু নতুন প্রস্তাব তুলছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে—
রুট পরিবর্তন: ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ এতদিন যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করলেও এবার তা পদ্মা সেতু দিয়ে পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন রুট: রাজশাহী থেকে কলকাতার পথে নতুন আরেকটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ।
পরিষেবা বৃদ্ধি: রাতের বেলায় যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনা এবং যাত্রী কোচের পাশাপাশি পার্সেল পরিবহনের কোচ যুক্ত করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
পণ্য পরিবহন: দর্শনা-গেদে, পেট্রাপোল-বেনাপোল ও রহনপুর-সিংহাবাদ রুটে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করার বিষয়েও আলোচনা হবে।
ভিসা নীতি শিথিল ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়:
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিমানে ভারতে প্রবেশ করে ট্রেন বা সড়কপথে ফেরা যায় না। বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষ রুটভিত্তিক এই ভিসাব্যবস্থার পরিবর্তন চাচ্ছে। এ ছাড়া ভারতীয় রেলের কাছে বাংলাদেশের বকেয়া অর্থ আদায়, ভারতীয় ঋণে চলমান রেল প্রকল্পের অগ্রগতি এবং রেল কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়গুলোও বৈঠকে আলোচিত হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল মৈত্রী এক্সপ্রেস, ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ২০২২ সালের ১ জুন মিতালী এক্সপ্রেস চালুর মাধ্যমে দুই দেশের রেল যোগাযোগের পরিধি বিস্তৃত হয়েছিল। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগামীকালের এই বৈঠকে ট্রেন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন দুই দেশের সাধারণ যাত্রীরা।