কিশোরগঞ্জের ইটনায় সুরমা নদীতে সুরের ছন্দে নৌকাবাইচ: প্রথম পুরস্কার ‘সোনার হরিণ’
কিশোরগঞ্জের ইটনার সুরমা নদীতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার দেওয়া হয় ‘সোনার হরিণ’।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর রাশেদুল ইসলাম (১৯) নামের এক তরুণকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ এলাকা থেকে রাশেদুলের কঙ্কাল, প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাশেদুল ইসলাম ফুলপুর উপজেলার কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি বাবার সঙ্গে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। গ্রেপ্তার তিন যুবক হলেন—জসিম উদ্দিন (২৪), রফিক (২৮) ও মোজাম্মেল হোসেন (২৭)।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট রাত নয়টার দিকে মুঠোফোনের মাধ্যমে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন প্রধান আসামি জসিম উদ্দিন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে রাশেদুলের মুঠোফোন থেকে তাঁর বাবার কাছে ফোন করে এক নারীর কণ্ঠে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে কয়েক দফা খুদেবার্তা পাঠানো হয়। এ ঘটনায় রাশেদুলের বাবা প্রথমে ফুলপুর থানায় জিডি এবং পরবর্তীতে গত ২৫ আগস্ট জসিমকে প্রধান আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় গতকাল দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রফিক ও মোজাম্মেলকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতে চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন হাড়, মাথার খুলি এবং পরনের প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। পরিধেয় পোশাক দেখে কঙ্কালটি রাশেদুলের বলে শনাক্ত করেন তাঁর বাবা।
নিহতের পরিবারের ধারণা, কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ এবং ইয়াবা সেবনকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। রাশেদুলের বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি সহকর্মী রফিকের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে রাশেদুলের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। এই বিরোধের জেরে তিনজন মিলে গামছা পেঁচিয়ে রাশেদুলকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফুলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিকরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যার কথা স্বীকার করলেও একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও পেছনের রহস্য পুরোপুরি উন্মোচনে বিষয়টি গভীরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া হাড়ের অংশবিশেষ ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।