কৃষি ও অর্থনীতি

রিজার্ভের স্বস্তির আড়ালে বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতি: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যে আশঙ্কাজনক পতন দেখেছিল, তা সফলভাবে ঠেকানো গেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রিজার্ভ বেশ সুসংহত ও স্বস্তিজনক পর্যায়ে রয়েছে, যা দেশের জন্য একটি বড় স্বস্তির বিষয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সারসহ নিত্যপণ্যের দাম চড়া থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকায় আমরা সেই উচ্চমূল্যেই প্রয়োজনীয় আমদানি খরচ অনায়াসে মেটাতে পারছি।

আওয়ামী লীগ আমলের শেষ দিকে প্রকৃত রিজার্ভ যখন ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল, তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু সময়োপযোগী উদ্যোগ রিজার্ভের পতন রোধ করে। বর্তমান সরকারের সময়েও প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের ধারা অব্যাহত থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বেড়ে বর্তমানে ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এ নিয়ে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই যে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেনা পরিশোধ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এই স্বস্তি অত্যন্ত জরুরি ছিল।

তবে রিজার্ভের এই স্বস্তিদায়ক চিত্রের পেছনে কিছু গভীর চিন্তার কারণও রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো বিনিয়োগ স্থবিরতা। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত ঋণ পাচ্ছেন না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানায় তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট।

শিল্পে জ্বালানির এই সংকট অবিলম্বে দূর করতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকলে রপ্তানিমুখী শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি বর্তমান কারখানাগুলোতেও উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত যদি রপ্তানি আয় কমে যায় এবং বিদেশ থেকে পর্যাপ্ত ডলারের জোগান না আসে, তবে বর্তমান রিজার্ভ দীর্ঘস্থায়ী করা কঠিন হবে। কারণ জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সার আমদানির জন্য নিয়মিত বড় অংকের ডলারের প্রয়োজন হয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মুদ্রাবাজারের ব্যবস্থাপনা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজারমুখী করা হয়েছিল, যার ফলে বিনিময় হার স্বাভাবিকভাবে স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে আবারও বিনিময় হার একরকম ‘ফিক্সড’ বা নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং বেচাকেনার সীমা বেঁধে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কৃত্রিম উপায়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করার এই পুরোনো কৌশল বর্জন করে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।

পরিশেষে বলা যায়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিরসন এবং বাজারভিত্তিক মুদ্রানীতি বজায় না রাখলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির প্রকৃত গতিশীলতা রক্ষা করা কঠিন হবে। রিজার্ভ ধরে রাখার পাশাপাশি উৎপাদনমুখী অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার দিকেই এখন সর্বোচ্চ নজর দেওয়া উচিত।

Related News

‘ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি’ তত্ত্ব ও বাস্তবতার খতিয়ান

বর্তমান সরকারের অর্থ উপদেষ্টার ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি’ দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পালের বিশদ বিশ্লেষণ ও মতামত।

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি: চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা অর্জন

গত দুই বছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ রয়েছে বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস চালুর উদ্যোগ, ঢাকায় বসছে দুই দিনের বৈঠক

ঢাকা-কলকাতা ও নিউ জলপাইগুড়ি রুটের বন্ধ থাকা মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর বিষয়ে আগামীকাল ঢাকায় শুরু হচ্ছে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের বৈঠক।

রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৩৯ বিলিয়ন ডলার: আমদানি সক্ষমতায় স্বস্তি

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৩৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত। চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা অর্জন।

টানা কমার পর দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে টানা তিন দফা কমার পর ভরিতে ৫ হাজার ৪৪২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাজুস। এখন প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা।

মালাক্কা থেকে বঙ্গোপসাগর: পরিবর্তনশীল ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের কৌশলগত সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ

বিশ্বরাজনীতির পটপরিবর্তনে বঙ্গোপসাগরের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ।

নওগাঁয় সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগ

নওগাঁয় আমন মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতি বস্তায় ৪০০-৫০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ক্ষুব্ধ কৃষকদের পাশে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের।

একীভূত হওয়ার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনে ১৮ হাজার গ্রাহকের ১৩০০ কোটি টাকা ফেরত চাওয়ার আবেদন

একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনে ১৮ হাজার আমানতকারী ১৩০০ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেছেন। টাকা দেওয়া শুরু ৭ সেপ্টেম্বর।

Search