সামাজিক মাধ্যমে অনবরত ট্যাগ দিয়ে হ্যারাসমেন্টের শিকার ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামী
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনবরত ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী।
নোয়াখালী: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ঝাঁজালো গন্ধে ১৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অচেতন অবস্থায় ১৩ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই তমরদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী গ্রামের বাসিন্দা। এদের মধ্যে রয়েছে সুরাইয়া আক্তার, আরাধ্যা দাশ, বিবি মরিয়ম, মো. অন্তর, পারভীন আক্তার, মুনতাহা, রিপা আক্তার, মেহরাব উদ্দিন, ফারহানা আক্তার, জামেলা আক্তার, চাঁদনি আক্তার, ফারিহা আক্তার ও ফাতেমা আক্তার। তাদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ১০টায় নিয়মিত পাঠদান শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পর হঠাৎ সপ্তম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা তীব্র এক ঝাঁজালো গন্ধ অনুভব করে। এ সময় চারজন ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং বাড়িতে নেওয়ার পর তাদের জ্ঞান ফিরে আসে। এর পর দুপুর ১২টার দিকে ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণির আরও ১৪ জন শিক্ষার্থী একে একে অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। শিক্ষকদের দ্রুত পদক্ষেপে তাদের মধ্যে ১৩ জনকে অচেতন অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত তারা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শেখ মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের পাশের পুকুর থেকে আসা কোনো গ্যাসের ঝাঁজালো গন্ধে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া এটি গণহিস্টিরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতাও (যেখানে একজন আক্রান্ত হলে অন্যরাও প্রভাবিত হয়) হতে পারে। তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৩ জন শিক্ষার্থীকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন জানান, কী কারণে শিক্ষার্থীরা এভাবে জ্ঞান হারিয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। ঘটনার পর পরই অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাসেল ইকবাল।
ইউএনও মো. রাসেল ইকবাল জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে সবারই জ্ঞান ফিরেছে এবং চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।