কুমিল্লা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশে টেকসই গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান একটি সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত রাষ্ট্র গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার নৈয়াইর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বার্ষিক ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, দেশের যেকোনো প্রতিকূল ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি থেকে বরাবরই সফলভাবে দেশেক উত্তরণ ঘটিয়েছে বিএনপি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুস্থ ধারার রাজনীতি, সুশাসন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। নতুন ধারার রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান বাংলাদেশে তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে। প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে সুস্থ ধারার উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
শিক্ষা খাতের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিট দখল বা কোনো ধরনের অরাজকতা থাকে না; বরং পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হয়। বিএনপি সরকার অতীতে সব পাবলিক পরীক্ষা নকলমুক্ত করে শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য ইতিহাস গড়েছিল।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকার শিক্ষাঙ্গনে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং ঢালাওভাবে পাসের হার বাড়িয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। শেখ হাসিনা কখনোই দেশের মানুষের ভালো চাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাঋণ ও উচ্চশিক্ষার বিশেষ সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর এবং ছেলেদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্কুল-কলেজপড়ুয়া সন্তানরা কোথায় যায় এবং কার সঙ্গে মেশে, সেদিকে মা-বাবাকে তীক্ষ্ণ নজরদারি রাখতে হবে। সামান্য গাফিলতির কারণে পরিবার, সমাজ তথা পুরো জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবদুস সোবহান মিয়াজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেম, বিএনপি নেতা এম.এ. লতিফ ভূইয়া, নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, পিটার চৌধুরী, আরিফ মাহামুদ, চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।