কাতারে বহুতল ভবন থেকে পড়ে কুলাউড়ার রেমিট্যান্স যোদ্ধা আজমের মর্মান্তিক মৃত্যু
কাতারে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের রশি ছিঁড়ে পড়ে মারা গেছেন কুলাউড়ার আজম মিয়া। পরিবারে চরম শোক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় নিখোঁজ হওয়ার ৩৬ ঘণ্টা পর শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাকিবুজ্জামান রকির (৩২) ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল নয়টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার কুরলিয়া এলাকায় পদ্মা নদী থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাকিবুজ্জামান রকি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাসিন্দা এবং স্থানীয় পৌর ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন।
উদ্ধার অভিযান ও পরিবারের শনাক্তকরণ
ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, আজ সকালে কুরলিয়া এলাকায় নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে নৌ পুলিশের একটি দল গিয়ে মরদেহটি ডাঙ্গায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে নিখোঁজ রকির পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে নিশ্চিত করেন যে এটি রকিরই লাশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত ও ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ভেড়ামারা প্রান্তে নেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া ও সুরতহাল শেষে তা পরিবারের কাছে দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হবে।স্থানীয় প্রশাসন ও নৌভ্রমণে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে ১২৩ জনের নৌভ্রমণ দল রওনা
↓
ভেড়ামারার গোলাপনগর ঘুরে ফেরার পথে হার্ডিঞ্জ সেতু সংলগ্ন পদ্মায় পৌঁছানো
↓
তীব্র স্রোতে বাল্কহেডের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৪ নম্বর পিলারে সজোড়ে ধাক্কা
↓
৩ জন নদীভুক্ত: ২ জনকে জীবিত উদ্ধার, ছাত্রদল নেতা রকি নিখোঁজ (শুক্রবার রাত ৯টা)
↓
৩৬ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে ঈশ্বরদীর কুরলিয়ায় রকির লাশ উদ্ধার (রোববার সকাল ৯টা)
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে শৈলকুপার কাতলাগাড়ি এলাকা থেকে ১২৩ জনের একটি প্রতিনিধিদল একটি ট্রলার/বাল্কহেডে করে নৌভ্রমণে বের হন। ভ্রমণ শেষে রাত নয়টার দিকে ফেরার পথে পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে তাঁদের নৌযানটি হার্ডিঞ্জ সেতুর ৪ নম্বর পিলারের সঙ্গে সজোড়ে ধাক্কা খায়। এতে রকিসহ মোট তিনজন নদীতে ছিটকে পড়েন। বাকি দুই যাত্রী লিটন ও ওহাবকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রাকিবুজ্জামান রকি নদীর তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আসছিল।