বেলারুশ সীমান্ত দিয়ে লিথুয়েনিয়ার আকাশসীমায় ঢোকা ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো
বেলারুশ থেকে লিথুয়েনিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ন্যাটোর যুদ্ধবিমান দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। রাজধানী ভিলনিয়াসে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক: সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আনুমানিক ১১ কোটি টন দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের বিশাল মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাঈদ এলাকায় পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানে ভারী দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ এবং আশাব্যঞ্জক ঘনত্বের ইউরেনিয়ামের সন্ধান মিলেছে। আবিষ্কারটি সৌদি আরবের খনিজ ও পারমাণবিক জ্বালানি খাতে বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সৌদি জ্বালানিমন্ত্রীর ঘোষণার কয়েক মাস আগে গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট ও প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমানের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সহায়তায় সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নতুন গতি আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, খনিজ খাতেও যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সহযোগিতা সম্প্রতি বাড়ছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর সৌদি রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মাআদেন ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান এমপি ম্যাটেরিয়ালসের মধ্যে যৌথ অংশীদারত্বের চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় নির্মাণাধীন একটি নতুন খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টের ৪৯ শতাংশ অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সম্মতির কথা জানানো হয়েছে।
জেদ্দা থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবাল সাঈদ অঞ্চলটি ইতিমধ্যে সমৃদ্ধ খনিজ সম্পদের জন্য পরিচিত। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এলাকাটিতে প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী দুর্লভ মৃত্তিকা উপাদান এবং ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা দুর্লভ মৃত্তিকা উপাদান রয়েছে। এ ছাড়া সেখানে প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়াম মজুত থাকার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ প্রযুক্তি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও ইলেকট্রনিকস শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে সৌদি আরবের এই খনিজ অনুসন্ধান দেশটির অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ এবং কৌশলগত খনিজ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সৌদি আরবের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এরই মধ্যে প্রায় ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আরও দুটি উন্নত খনিজ অঞ্চল চিহ্নিত করেছে। দেশটির বিশাল খনিজ সম্পদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে যাওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব অনুসন্ধানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।