ঢাকা: ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ সম্পূর্ণ ভুল, অসত্য ও মনগড়া বলে দাবি করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. শামীম হুসাইন। তাঁর দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি কুচক্রী মহল তাকে সামাজিকভাবে হেয় ও সম্মানহানি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথিপত্র প্রকাশ করে তিনি এসব কথা জানান।
এডিসি শামীম হুসাইন জানান, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে ‘শামীম-কেশবদের ঘুষের হাট’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ছয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উল্লেখিত প্রতিটি ঘটনার সময়ই তিনি ওই শাখায় দায়িত্বে ছিলেন না। তাঁর যোগদান করার আগের সময়ের বিভিন্ন ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়গুলোকে অসত্য তথ্যের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর দেওয়া ব্যাখ্যা ও দাপ্তরিক তথ্যগুলো নিম্নরূপ:
এই মামলায় গত ২৫ মে ২০২৫ তারিখে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. বদরুদ্দোজা শুভ চেক প্রদান করেছিলেন, যেখানে শামীম হুসাইনের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তৎকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই ক্ষতিপূরণের অ্যাডভাইস প্রদান করেন।
এই ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাওয়া জসিমউদ্দিন আহমেদের অপর ভাই-বোনেরা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে নিজ দায়িত্বে জসিমউদ্দিনের অনুকূলে চেক হস্তান্তরের অনুরোধ করেছিলেন, যা একটি সম্পূর্ণ দালিলিক বিষয়।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের এই ক্ষতিপূরণ গত ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোছা. ফুয়ারা খাতুন প্রদান করেন।
পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এবং ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে পৃথক চিঠির মাধ্যমেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল।
শামীম হুসাইন স্পষ্ট করে জানান, তিনি চলতি বছরের ১৭ জুন এলএ শাখায় যোগদান করেছেন। অথচ তাঁর যোগদানের আগের বিভিন্ন ঘটনাকে জেনেশুনে তাঁর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো মামলা না থাকলেও প্রতিবেদনে ২০২০ সালের একটি অমূলক স্পেশাল মামলার প্রসঙ্গ টানা হয়েছে, যেখানে বাস্তবসম্মত কোনো সংশ্লিষ্টতাই নেই। পাশাপাশি কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী প্রকল্প কিংবা রিসিভার সম্পত্তি নিয়ে প্রতিবেদনে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি ভুল ও মনগড়া বলে দাবি করেন তিনি।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামান্য ভুল তথ্যও মানুষের মনে অহেতুক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে এবং এ ধরনের পরিকল্পিত অপপ্রচার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।