যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত অস্বাভাবিক বৃদ্ধি: বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত রেকর্ড বৃদ্ধিতে বিশ্ববাজারে কমেছে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম। জানুন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের সর্বশেষ আপডেট।
অর্থনীতি: তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং উপজেলা পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ (UDYOG): উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’র আওতায় নির্বাচিত উদ্যোক্তারা কোনো সহায়ক জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়ন পাবেন। এর সর্বোচ্চ অর্ধেক থাকবে ব্যাংকঋণ এবং সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট গত ১৩ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচির নীতিমালা জারি করে। উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করা, তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগে অর্থায়ন, পরামর্শ ও বাজারসংযোগের সুযোগ তৈরি এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাকে চিহ্নিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এরপর অন্যান্য জেলার অন্তর্ভুক্ত উপজেলার উদ্যোক্তাদের জন্য ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে একজন নির্বাচিত উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজন ও প্রস্তাবিত ব্যয়ের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়ন নির্ধারণ করা যাবে। এর মধ্যে ঋণ ও অনুদানের অনুপাত হবে ৫০:৫০। ফলে সর্বোচ্চ প্যাকেজে ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে। তবে প্রত্যেক নির্বাচিত উদ্যোক্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০ লাখ টাকা পাওয়ার অধিকারী হবেন না।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসায় ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে তার জন্য সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান নির্ধারণ করা যেতে পারে। উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ বা অন্য কোনো বৈধ উৎসের অর্থ থাকলে সেটিও সামগ্রিক অর্থায়ন পরিকল্পনায় বিবেচনা করা হবে।
তবে অনুদানের অর্থ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বা অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হলে বিতরণ করা অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ ঋণে রূপান্তরিত হবে।
আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পাশাপাশি তার নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ, ব্যবসায়িক ধারণা অথবা নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে।
ইতোমধ্যে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঋণ নেওয়া ব্যক্তি এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচিত হবেন না। ঋণখেলাপি ব্যক্তিও আবেদন করার যোগ্য নন। সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরাও এ কর্মসূচির অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপসহ বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে বৈধ বিভিন্ন ব্যবসা এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং দেশের তফশিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফশিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন জমা দেওয়া যাবে। যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
আবেদনের সঙ্গে সাধারণত যেসব কাগজপত্র দিতে হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি।
সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, যদি থাকে।
দক্ষতা উন্নয়ন বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদ, যদি থাকে।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র।
নির্ধারিত আবেদন ফরম ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
নির্বাচিত হলেই ঋণ নিশ্চিত নয়।
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। আবেদনকারীর ব্যবসায়িক ধারণার যৌক্তিকতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা, বাজার সম্ভাবনা, আর্থিক পরিকল্পনা, উদ্যোক্তার সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য কর্মসংস্থান বিবেচনা করে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।
চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি, প্রচলিত আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে। কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে ব্যাংককে তার কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।
কর্মসূচিতে শুধু অর্থায়ন নয়, উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রত্যেক আবেদনকারীকে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
নির্বাচিত উদ্যোক্তারা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনসহ ব্যবসা নিবন্ধনে সহায়তা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরির সহযোগিতা এবং বাজারসংযোগের সুযোগ পাবেন।
কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো পর্যায়ে তদবির করা যাবে না। তদবিরের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর প্রার্থিতা বাতিল হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা অন্যের ব্যবসায়িক ধারণা নিজের নামে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলেও আবেদন বাতিল এবং আবেদনকারীকে কালো তালিকাভুক্ত করার বিধান রয়েছে।
ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের পরিচিতি যাচাই, সিআইবি এবং লেনদেন তদারকিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর লক্ষ্যেই ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।