অননুমোদিত ঋণ অ্যাপের লেনদেন বন্ধের কড়া নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের: ৩১টি অ্যাপ চিহ্নিত
অননুমোদিত অনলাইন ঋণ অ্যাপের সঙ্গে সব লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিটিআরসিকে ৩১টি অবৈধ অ্যাপ বন্ধের চিঠি। বিস্তারিত জানুন।
যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। লোহিত সাগর অভিমুখী সৌদি আরবের কৌশলগত পাইপলাইনে হামলার পর সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যেই বুধবার তেলের বাজারে এই দরপতন দেখা গেল।
বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৩ সেন্ট বা ০.৮৬ শতাংশ কমে ১০৭ ডলার ৮২ সেন্টে নেমেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেঞ্চমার্ক ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই)-এর দাম ৯৭ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ কমে হয়েছে ১০৪ ডলার ৮৬ সেন্ট।
এর আগে মঙ্গলবার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় তেলের দামই ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা গত ১৯ মে-র পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। মূলত লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ইউরোপে সৌদি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় এই লাফ দিয়েছিল তেলের বাজার।
বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) দেওয়া তথ্যমতে, ১১ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত অবিশ্বাস্যভাবে ৭ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে তেলের মজুত অন্তত ১৬ লাখ ব্যারেল কমতে পারে। একইসঙ্গে গ্যাসোলিন ও পরিশোধিত জ্বালানির মজুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরে এসেছে।
চীনের ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ‘হাইটং ফিউচার্স’ তাদের এক পর্যালোচনায় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও ডিজেলের অনাকাঙ্ক্ষিত মজুত বৃদ্ধি তেলের দাম কমাতে ভূমিকা রাখলেও বিশ্ববাজারে মূল অপরিশোধিত তেলের ঘাটতি এখনও একটি বড় বাস্তবতা।
এদিকে, গত শুক্রবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি আরব তাদের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশটি দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাতো, যা বিশ্ব বাজারে দৈনিক সরবরাহকৃত মোট তেলের প্রায় ৪ শতাংশ। তবে পাইপলাইনটি মেরামতে কত সময় লাগবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী খুব দ্রুত সরবরাহ শুরু হওয়ার আশা প্রকাশ করলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে এতে ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
অন্যত্র, লিবিয়ার তিনটি তেলক্ষেত্রে স্থানীয় ‘পেট্রোলিয়াম ফ্যাসিলিটিজ গার্ড’-এর বিক্ষোভ ও পাইপলাইনের ভাল্ভ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে উৎপাদন সাময়িক বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে দেশটির ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনের (এনওসি) প্রধান মাসউদ সুলেমান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় সার্বিক উৎপাদনে বড় কোনো ধস নামেনি এবং বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।