১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইাধীন, বিভ্রান্তি ছড়াবেন না: আইনমন্ত্রী
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১০টি পাস হয়েছে। বাকি ১৬টি কেন উপস্থাপন করা হয়নি, তা নিয়ে সচিবালয়ে ব্যাখ্যা দিলেন আইনমন্ত্রী। গুম ও মানবাধিকার আইন নিয়ে নতুন বার্তা।
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনমনে সৃষ্ট উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা গণতন্ত্রের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে জনমনে যে সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে, তা গণতন্ত্রে উত্তরণের পথকে ‘সংকটপূর্ণ’ করে তুলতে পারে।
আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত প্রবাসে বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
তারেক রহমান শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশে প্রতিনিয়ত একের পর এক নিত্যনতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সংকটাপন্ন করে তোলা হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা করেন, শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকা সব গণতান্ত্রিক দলকে কোনো অগণতান্ত্রিক কিংবা অপশক্তির কাছে বিনা শর্তে আত্মসমর্পণের পথে হাঁটতে হয় কি না।
তিনি বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জনমনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসা বাড়ছে, যথাসময়ে কি নির্বাচন হবে?…এমন তো হবার কথা ছিল না।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অভিযোগ, “ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশেও বর্তমানে বিএনপির বিজয় ঠেকাতে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার এবং অপকৌশল দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।” তবে তাঁর বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বিশ্বাসী নাগরিকেরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী কিংবা বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলেও সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানান, ভিন্ন রাজনৈতিক দলের যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে ছিলেন, এমন প্রার্থীকেও বিএনপি সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান দেশে নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সামাজিক উদাসীনতাকে প্রকট সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলসহ সচেতন নারী সমাজকে সরকারের কাছে তাদের দাবি তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।