১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইাধীন, বিভ্রান্তি ছড়াবেন না: আইনমন্ত্রী
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১০টি পাস হয়েছে। বাকি ১৬টি কেন উপস্থাপন করা হয়নি, তা নিয়ে সচিবালয়ে ব্যাখ্যা দিলেন আইনমন্ত্রী। গুম ও মানবাধিকার আইন নিয়ে নতুন বার্তা।
ঢাকা ২০২৫ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং দেশকে দুর্নীতি ও দুঃশাসন মুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর দল কারও সঙ্গে আপস করবে না। তিনি দেশকে নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে প্রতিশ্রুতির বদলে কথা ও কাজের মিল রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর মিরপুর পীরেরবাগ ঝিলপাড়ে ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনে ডা. শফিকুর রহমান সমর্থক গোষ্ঠী আয়োজিত প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত শুধুই প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং কথা ও কাজের মধ্যে মিল রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বিগত ৫৪ বছরে দেশের মানুষ বহু ধোঁকা খেয়েছে উল্লেখ করে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন,
\”নির্বাচনের আগে কিছু মানুষ বা দল বাংলাদেশকে আমেরিকা-কানাডা বানানোর স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু নির্বাচনের পরে তারা সে ওয়াদা আর রাখে না। তাই এবার এসব ধোকাবাজকে না বলুন। কথামালার ফুলঝুড়িতে বিভ্রান্ত না হয়ে ভোটারকে অবশ্যই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে।\”
তিনি দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সকলকে ময়দানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে জামায়াত আমির কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, \”বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। তাই এদেশ কারো নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে না। কাউকে দাদা বা বড় ভাই আমরা মানবো না। নিজেরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আত্মসম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে চলবো।\”
পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র হিসেবে তিনি কারো সাথে বৈরিতা নয়, বরং সকলের সাথে বন্ধুত্ব ও সমতার কথা বলেন। তিনি বলেন, \”পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমরা কারো রক্ত-চক্ষুকে পরোয়া করবো না।\”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ তাঁদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে নতুন প্রজন্ম ও যুব সমাজকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তাদের সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে না হয়। তিনি আত্মনির্ভরশীল যুব সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং বলেন, \”আমরা এতোদিন অতীত নিয়ে কামড়াকামড়ি করেছি। ফলে আমরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছি। এখন দিন বদলের সময় এসেছে।\”
আল্লাহ তাঁদের সুযোগ দিলে নৈতিক ও উন্নত জাগতিক শিক্ষা চালুকরণ, সকলের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করণ এবং সভ্য দেশগুলোর সাথে শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা।