১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইাধীন, বিভ্রান্তি ছড়াবেন না: আইনমন্ত্রী
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১০টি পাস হয়েছে। বাকি ১৬টি কেন উপস্থাপন করা হয়নি, তা নিয়ে সচিবালয়ে ব্যাখ্যা দিলেন আইনমন্ত্রী। গুম ও মানবাধিকার আইন নিয়ে নতুন বার্তা।
ঢাকা: রাজধানীর পুরানা পল্টনে গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং এর পেছনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন।
মির্জা আব্বাস শরিফ ওসমান হাদিকে তাঁর নির্বাচনী প্রতিযোগী হলেও ‘রাজপথের সাহসী সৈনিক’ বলে অভিহিত করেন এবং দ্রুত তাঁকে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় দেখতে পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।”
বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, এই হামলাটি পরিকল্পিত এবং এর পেছনে একটি বিশেষ দলের উদ্দেশ্য ছিল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, “দুপুর ২টায় হাদি গুলিবিদ্ধ হলেন, তার আধাঘন্টা পরই একটি দল উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য ফেসবুকে পোষ্ট দেওয়া শুরু করে। আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পেলাম সবই পরিকল্পিত।”
তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দিয়ে শান্ত থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, হাসপাতালে যারা গোলযোগ সৃষ্টি করেছিল, তারা হাদির সমর্থক নয়, বরং অন্য একটি দলের সদস্য। তাদের লক্ষ্য ছিল, “হাদির চিকিৎসা যাতে ব্যাহত হয় এবং সে মারা যাক।”
মির্জা আব্বাস দাবি করেন, হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রায় এক-দেড়শ লোক ফেসবুকে দেশে মব সৃষ্টির জন্য উস্কানি দিয়ে পোস্ট দিয়েছে এবং তারা সকলেই একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের।
ষড়যন্ত্রকারী দলের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, “একটি দলের ষড়যন্ত্র আমরা ৭১, ৮৬-সহ অনেক দেখেছি। এদের মূল শক্তিই ষড়যন্ত্র। এরা স্থির রাষ্ট্র সহ্য করতে পারে না। তাই রাষ্ট্রকে সবসময়ই অস্থিতিশীল রাখতে চায়।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি সহিংসতায় বিশ্বাসী নয়। তিনি হাদির ওপর হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ‘বিশেষ দলের মুখোশ উন্মোচিত’ হওয়ার দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, এবং এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।