ঢাকার ৩ বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: যানজটমুক্ত নতুন স্বপ্ন
রাজধানীর যানজট নিরসনে গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল ঢাকার বাইরে সরানোর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। হাই স্পিড ট্রেন ও জনঘনত্ব কমানোর মহাপরিকল্পনা।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও তথ্য প্রবাহের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। গত সোমবার (১৫ জুন) দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুষ্ঠিত বৈঠকটি কেবল একটি প্রথাগত আলোচনা ছিল না; বরং তা ছিল দেশের সাংবাদিকতাকে দলীয় দাসত্ব ও ‘তোষামোদ সংস্কৃতি’ থেকে মুক্ত করার একটি স্পষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা।
প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন—দলীয় অবস্থান বা সরকারের অন্ধ স্তুতি নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবকের কাছ থেকে আসা এমন দিকনির্দেশনা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথকে যেমন সুগম করবে, তেমনি ফিরিয়ে আনবে গণমাধ্যমের হারিয়ে যাওয়া গণ-আস্থা।
প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে দেশের সংবাদমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ ও কাঠামোগত সংকটগুলোকে দ্রুত সমাধান করা আবশ্যক। বৈঠকে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে অত্যন্ত জোরালোভাবে বেশ কিছু মৌলিক অধিকার ও সংকটের কথা তুলে ধরা হয়।
সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা না থাকলে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অসম্ভব। তাই টেলিভিশন সাংবাদিকদের জন্য দ্রুত ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ও ছাঁটাই বন্ধ করে চাকরির সুনির্দিষ্ট আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
টেলিভিশন শিল্পকে একটি স্বাবলম্বী ও পূর্ণাঙ্গ শিল্পখাত হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পক্ষ থেকে শুল্ক ও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন—দলীয় অবস্থান বা সরকারের অন্ধ স্তুতি নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবকের কাছ থেকে আসা এমন দিকনির্দেশনা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথকে যেমন সুগম করবে, তেমনি ফিরিয়ে আনবে গণমাধ্যমের হারিয়ে যাওয়া গণ-আস্থা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম. ছালেহ জানিয়েছেন, সমাজ ও অর্থনীতিতে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এবং গণমাধ্যমের ওপর থেকে সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত নিয়ন্ত্রণ তুলে নিতে একটি ‘স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
আগামী ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) এই কমিশনের রূপরেখা ও কার্যপরিধি নির্ধারণে দেশের সব অংশীজনদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার এবং গণমাধ্যমের সম্পর্ক কোনো বৈরিতার হতে পারে না, বরং তা হতে হবে গঠনমূলক অংশীদারিত্বের। সরকারের ভুলত্রুটি ও দুর্নীতি যেমন গণমাধ্যমকে সাহসের সাথে তুলে ধরতে হবে, তেমনি দেশের ইতিবাচক অগ্রগতিকেও মূল্যায়ন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সময়োপযোগী দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে হলে আগামী ১৮ জুনের সংলাপ থেকে একটি শক্তিশালী ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ‘স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন’ প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশ কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, বিশ্বমঞ্চে মুক্ত গণমাধ্যমের অন্যতম আদর্শ উদাহরণ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।