কলেজছাত্রী ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মো. জিয়াউদ্দিন বাবু, বরিশাল: বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার…
একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হলো বনায়ন বা বৃক্ষরোপণ। চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সর্বস্তরে যখন আধুনিকায়ন ও সংস্কারের হাওয়া বইছে, তখন পরিবেশ সুরক্ষায় শৈশব থেকেই শিশুদের সম্পৃক্ত করার এই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও দূরদর্শী। আজ বুধবার (১৫ জুলাই, ২০২৬) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে আরও সবুজ করে গড়ে তোলার যে অনন্য ডাক দিয়েছেন, তা কেবল একটি গতানুগতিক কর্মসূচি নয়; বরং তা একটি পরিবেশবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ার যুগান্তকারী ইশতেহার। প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতি এই কর্মসূচির গুরুত্বকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বৃক্ষরোপণ দর্শনের সবচেয়ে চমৎকার ও অভিনব দিকটি ছিল শিশুদের উদ্দেশে দেওয়া তাঁর সুনির্দিষ্ট ও গবেষণাধর্মী পরামর্শ। প্রধানমন্ত্রী শিশুদের কেবল গাছ লাগানোর অনুরোধই করেননি, বরং সেই গাছটি কী পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন করে, তা মানুষের কী কী উপকারে আসে—এই বিষয়গুলো ইন্টারনেট ঘেঁটে বিভিন্নভাবে ‘রিসার্চ’ বা গবেষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি অত্যন্ত আধুনিক এবং যুগোপযোগী একটি চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। আজকের তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিশুরা যখন স্মার্টফোন বা ইন্টারনেটে বুঁদ হয়ে থাকছে, তখন তাদের সেই প্রযুক্তি-আসক্তিকে পরিবেশ বিজ্ঞান ও গঠনমূলক গবেষণার দিকে ধাবিত করার এই কৌশল সত্যিই অনন্য। এর মাধ্যমে প্রতিবছর একটি শিশু যখন একটি নতুন গাছ লাগাবে এবং সেটি নিয়ে পড়াশোনা করবে, তখন তার ভেতরে প্রকৃতিপ্রেমের পাশাপাশি একটি বিজ্ঞানমনস্ক ও অনুসন্ধিৎসু মনস্তত্ত্ব গড়ে উঠবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দেশজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একযোগে প্রায় দুই লাখ চারা রোপণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ দেশের সবুজায়নে এক বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন ‘নিমগাছের চারা’ রোপণ করে এই কর্মসূচির যে সূচনা করলেন, তা অত্যন্ত প্রতীকী ও অর্থবহ। আমাদের দেশের হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশাল প্রাঙ্গণগুলো যদি এভাবে সবুজে ছেয়ে যায়, তবে তা যেমন একদিকে বিদ্যালয়ের পরিবেশকে শীতল ও মনোরম রাখবে, অন্যদিকে ক্লান্তি দূর করতে খুদে শিক্ষার্থীদের দেবে সুশীতল ছায়া ও বিশুদ্ধ বাতাস। জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য এই দুই লাখ গাছের চারা ভবিষ্যতে প্রকৃতির এক বিশাল রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
তবে এই ধরনের মহৎ কর্মসূচির সুফল তখনই দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যাবে, যখন রোপণকৃত চারাগুলোর সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অনেক সময় দেখা যায়, ঘটা করে গাছ লাগানোর পর সঠিক তদারকির অভাবে চারাগুলো গবাদিপশুর পেটে যায় অথবা পানির অভাবে শুকিয়ে মরে। এই ক্ষেত্রে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষকবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি গাছের পরিচর্যার দায়িত্ব যদি নির্দিষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওপর ‘সবুজ ডায়েরি’ বা বিশেষ পুরস্কারের মাধ্যমে বণ্টন করে দেওয়া যায়, তবে শিশুরা আরও উৎসাহিত হবে। বৃক্ষরোপণের পর খুদে শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রাণপ্রকৃতিবিষয়ক বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রজেক্ট বা প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর ঘুরে ঘুরে দেখা প্রমাণ করে যে, নতুন প্রজন্মের মেধা ও পরিবেশভাবনাকে সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, আজ ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখটি বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে, কারণ আজ আমরা সবাই মিলে দেশের মাটিতে একসঙ্গে লাখো চারা রোপণের এক নতুন রেকর্ড গড়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দূরদর্শী সবুজ রূপকল্প এবং খুদে শিক্ষার্থীদের রিসার্চের এই অভিনব পাঠ যদি মাঠপর্যায়ে টেকসইভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিকভাবেই পুনর্গঠিত হবে না; বরং বিশ্বমঞ্চে এটি একটি অনন্য, সবুজ, সুশীতল ও পরিবেশবান্ধব মডেল রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে—এটাই আমাদের দৃঢ় প্রত্যাশা।