বাকৃবির ডিভিএম ৬০তম ব্যাচের ইন্টার্নশিপ শুরু, বিদেশে গেছেন ৩৫ শিক্ষার্থী
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ৬০তম ব্যাচের ইন্টার্নশিপ শুরু হয়েছে। এতে বিদেশে অবস্থানরত ৩৫ জনসহ মোট ১৭৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
শিক্ষা: রংপুর শিশু নিকেতন উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে শনিবার সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকেন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছেন, কেউ ব্যস্ত উপহার ও ক্রেস্ট সংগ্রহে। সাফল্যের আনন্দ আর নতুন স্বপ্নে পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’। ‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রংপুর অঞ্চলের ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে দেখা যায় কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দুই বন্ধু মো. সোয়াদ ও মো. জুনাইদকে। দুজনই জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং কারমাইকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন তাদের।
জুনাইদ বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে সংবর্ধনা পাওয়ার অনুভূতি যোগ হয়ে আনন্দ আরও বেড়ে গেছে। এখানে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, পাশাপাশি নতুন করে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণাও পাওয়া যাচ্ছে।
তবে সোয়াদের সাফল্যের পথ ছিল কিছুটা ভিন্ন। অনেক বন্ধু প্রাইভেট ও কোচিংয়ের সুযোগ পেলেও তার সে সুযোগ ছিল না। নিজের পরিশ্রমের ওপর ভরসা করেই এগিয়ে গেছে সে।
সোয়াদ বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম করেছি। প্রাপ্য হিসেবে আজ সংবর্ধনায় এসেছি। খুব ভালো লাগছে।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসা শিক্ষার্থীদের সাফল্যের গল্প এক রকম নয়। কেউ প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উঠে এসেছে, কেউ শহরের নামী প্রতিষ্ঠানে পড়েছে। কারও সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আবার কারও সামনে রয়েছে উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা।
পীরগঞ্জের বড়দরগা থেকে অনুষ্ঠানে এসেছে মায়িশা ফাহমিদা। মিঠাপুকুরের শঠিবাড়ি দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া মায়িশার লক্ষ্য এখন বিজ্ঞান বিভাগে কলেজে পড়াশোনা করা। সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজে ভর্তির সুযোগও পেয়েছে সে। তবে উচ্চশিক্ষার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে তার।
তারাগঞ্জের ছুট লক্ষ্মীপুর থেকে বাবা কেরামত আলীর ইজিবাইকে করে অনুষ্ঠানে এসেছে নাদিয়া আফরিন। অভাবের মধ্যেই পড়াশোনা করে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।
নাদিয়া বলেন, ‘অনেক দিন না খেয়ে স্কুলে গেছি। ধারদেনা করে বাবা ফরম পূরণের টাকা দিয়েছেন। সেগুলো উতরে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। পরিবার-প্রতিবেশী, আমি সেই ফলাফলে খুব আনন্দিত হয়েছি। কিন্তু কলেজে পড়ার খরচ এখন সেই আনন্দ হারিয়ে যাওয়ার পথে।’
শিক্ষার্থীদের সাফল্যের সঙ্গে মিশে আছে অভিভাবকদের দীর্ঘ সংগ্রামও। মিঠাপুকুর থেকে ছেলেকে নিয়ে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অভিভাবক মিজানুর রহমান। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি। বর্তমানে একটি ওষুধের দোকানে মাসে ৭ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। পাশাপাশি ২২ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করেন।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘লেখাপড়া না থাকার কষ্ট আমি জানি। ২২ শতাংশ জমির চাষাবাদ আর বেতনের ৭ হাজার টাকায় সংসার চালিয়ে একবেলা খেয়ে না-খেয়ে ছেলেকে পড়িয়েছি। ছেলে সেই কষ্টের দাম দিয়েছে। আমার ইচ্ছা ছেলেকে চিকিৎসক বানাব।’
মাঠজুড়ে তখন ক্রেস্ট ও উপহার নেওয়ার ব্যস্ততা। কোথাও ছবি তোলা, কোথাও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, আবার কোথাও মঞ্চের আয়োজন—সব মিলিয়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
তবে এই আনন্দের মধ্যেই কৃতী শিক্ষার্থীদের সামনে খুলে গেছে নতুন অধ্যায়ের দরজা। বিদ্যালয়ের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে এবার তাদের শুরু হবে কলেজজীবন। কারও লক্ষ্য প্রকৌশলী হওয়া, কারও চিকিৎসক, আবার কেউ এখনো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন সাজাচ্ছে।
প্রথম আলোর আয়োজনে এবং শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। রংপুরের আয়োজনেও অতিথিদের বক্তব্য, কৃতী শিক্ষার্থীদের অনুভূতি প্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল।