সম্পাদকীয়

এক মাসের মধ্যে রামিসার খুনির ফাঁসি নিশ্চিতের নির্দেশ একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে

বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো আইনের দীর্ঘসূত্রতা। একটি স্পর্শকাতর অপরাধের বিচার হতে বছরের পর বছর কেটে যায়, যার ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে সমাজে ঘুরে বেড়ায়। ‘প্রথম আলো’-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে আসা ‘নারী-শিশু নির্যাতনের মামলায় মাত্র ৩ শতাংশ সাজার হার’ মূলত অপরাধীদের জন্য এক অদৃশ্য অভয়পত্র হিসেবে কাজ করছিল। এই বিচারহীনতার অন্ধকার সুড়ঙ্গে আশার আলো জ্বালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি যখন দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাআল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে এবং সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড,” তখন দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘকাল পর একজন প্রকৃত অভিভাবকের উপস্থিতি অনুভব করেছে। এই ঘোষণা প্রমাণ করে যে, বর্তমান সরকার কেবল ক্ষমতাকেন্দ্রীক নয়, বরং জনগণের জীবন ও সম্মানের সুরক্ষায় সম্পূর্ণ সংকল্পবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সবচেয়ে পরিপক্ব ও দায়িত্বশীল দিক হলো তাঁর আইনি কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা। তিনি স্পষ্ট করেছেন, “বিচার প্রক্রিয়া নির্ধারিত আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।” অর্থাৎ, এটি কোনো সস্তা আবেগ বা বিচারবহির্ভূত ব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত নয়; বরং প্রচলিত আইন ও ফাস্ট-ট্র্যাক ট্রাইব্যুনালকে সর্বোচ্চ গতিশীল করে জাস্টিস ডেলিভারি সিস্টেম বা বিচার ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের এক প্রাজ্ঞ রূপরেখা। এক মাসের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া মেনে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার এই মডেল যদি সফল হয়, তবে তা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি ‘প্রিসিডেন্ট’ বা ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এটি একদিকে যেমন আমলাতান্ত্রিক ও বিচারিক অলসতাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে, অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিখুঁত ও দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট দাখিলে বাধ্য করবে।

অপরাধ বিজ্ঞানের একটি মৌলিক সূত্র হলো—শাস্তির কঠোরতার চেয়ে ‘শাস্তি পাওয়াটা নিশ্চিত কি না এবং তা কত দ্রুত হচ্ছে’, তা অপরাধের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। প্রধানমন্ত্রী ঠিক এই মনস্তাত্ত্বিক জায়গাটিতে আঘাত করেছেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়েছেন, যেন “ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যক্তি এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়।” যখন সমাজ ও অপরাধী চক্র দেখবে যে রাষ্ট্রপ্রধান স্বয়ং মনিটরিং করছেন এবং অপরাধ করার ৩০ দিনের মধ্যে ফাঁসির দড়ি নিশ্চিত হচ্ছে, তখন বিকৃত লালসা চরিতার্থ করার আগে যেকোনো অপরাধীর বুক কেঁপে উঠবে। এই কঠোর বার্তাটিই সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে ২০০২ সালে এসিড সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দেশকে এসিডের অভিশাপ থেকে মুক্ত করেছিলেন, আজ তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারী ও শিশু রক্ষায় ধর্ষণের বিরুদ্ধে একই রকম অলিখিত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তবে এই ঐতিহাসিক ঘোষণাকে সফল করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করতে হবে, যা রামিসা হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রতিদিনের অগ্রগতি তদারকি করবে। পুলিশি তদন্তে যেন কোনো ফাঁকফোকর না থাকে এবং কোনো প্রভাবশালী মহল যেন খুনি সোহেল রানাকে আড়াল করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই হবে বর্তমান প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

রামিসার রক্তমাখা নিথর দেহ আজ বাংলাদেশের বিবেককে জাগিয়ে তুলেছে, আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই জাগ্রত বিবেকের কণ্ঠস্বর হয়ে খুনিদের চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছেন। দেশবন্ধু তারেক রহমানের এই সাহসী, মানবিক ও আপসহীন পদক্ষেপকে আমরা গভীরভাবে স্বাগত জানাই। ৩০ দিনের মধ্যে রামিসার খুনির ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে শিশু ও নারী নির্যাতনের অন্ধকার অধ্যায় চিরতরে অবসান ঘটবে এবং দেশ একটি নিরাপদ, ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে—এটাই আজ কোটি বাঙালির প্রত্যাশা।

Related News

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ: সাইবার নিরাপত্তায় লাল সংকেত নাকি সময়োচিত সতর্কতা? -রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

বৈশ্বিক সাইবার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধের নেপথ্য কারণ ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।

প্রধানমন্ত্রীর খুলনা-বাগেরহাট সফর সম্পন্ন; আঞ্চলিক বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

খুলনা ও বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর সমাপ্তি, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।

মোংলা থেকে উপকূলের জাগরণ — প্রধানমন্ত্রীর সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

খুলনা ও বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন সফর নিয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশ্লেষণাত্মক কলাম।

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার — সম্প্রীতির বাংলাদেশ রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

মহানবমীতে তিন বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক পূজা মণ্ডপ সফর ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।

নাগরিকত্বই পরিচয়, ধর্ম নয় – তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশের বার্তা। -রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

প্রধানমন্ত্রীর দুর্গোৎসব সফর, সেনাবাহিনীতে ওআরওপি সুবিধা এবং বর্তমান রাষ্ট্রদর্শন নিয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের নিবন্ধ।

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের তাৎপর্য- রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার দিক নির্দেশনার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের নিবন্ধ।

ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের শেষ দিন আজ, ২০২৭ সালের চেয়ারম্যানশিপ পেল পাকিস্তান

থাইল্যান্ডে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বার্ষিক সভা শেষ। ২০২৭ সালের বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যানশিপ পেল পাকিস্তান। ব্যাংকক থেকে রিপোর্ট।

ব্যাংককে বিশ্ব অর্থনীতির নতুন দিগন্ত: সংস্কারের শর্তে বাংলাদেশের সামনে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের সুযোগ-রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ সম্মেলনে বাংলাদেশের ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।

Search