বাংলা

ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা ও সুশাসনের সুফল: স্বস্তির জনজীবন ও নিরাপদ বাংলাদেশ

বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা এবং আল্লাহর প্রতি পরম আনুগত্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত এই উৎসব। তবে এবারের ঈদের আনন্দ এ দেশের সাধারণ মানুষের কাছে একটু ভিন্ন মাত্রায়, ভিন্ন আবহে ধরা দিয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে ঈদের আগে যেখানে সাধারণ মানুষের মনে তাড়া করত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির আতঙ্ক, ঢাকা ছাড়ার পথে যাতায়াতের সীমাহীন ভোগান্তি আর কোরবানির পশুর হাটের নানামুখী অব্যবস্থাপনা—সেখানে এবারের চিত্র অনেকটাই ব্যতিক্রম। বর্তমান সরকারের কার্যকর নানামুখী পদক্ষেপ, কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি এবং সুশাসনের সুফল আজ দেশের প্রতিটি স্তরে দৃশ্যমান।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে স্বস্তির এই সুবাতাস ঈদ উদযাপনে যোগ করেছে এক নতুন ও আনন্দময় মাত্রা।

উৎসবের দিনগুলোতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার। অতীতে সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকটের কারণে ঈদের আগে যেভাবে মসলা, তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেত, এবার সরকার সেখানে শক্ত লাগাম টেনে ধরেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিরলস বাজার মনিটরিংয়ের ফলে অসাধু চক্র এবার কোনো কারসাজি করার সুযোগ পায়নি।

মূল্যস্ফীতির বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ধরে রাখা সরকারের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দক্ষতার একটি বড় প্রমাণ। বাজারের এই স্থিতিশীলতা প্রতিটি পরিবারকে স্বস্তিতে ঈদ উদযাপনের সুযোগ করে দিয়েছে।

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য অতীতে মহাসড়কগুলো যেন এক একটি দুঃস্বপ্নের নাম ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং অতিরিক্ত ভাড়ার নৈরাজ্য এবার শক্ত হাতে দমন করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং হাইওয়ে পুলিশের কঠোর নজরদারির কারণে এবার মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল রয়েছে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও গতিশীল।

রেল ও নৌ-পথেও শৃঙ্খলার আমূল পরিবর্তন এসেছে। টিকিট কালোবাজারি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা কোনো হ্যারাসমেন্ট ছাড়াই নিরাপদে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। নিরাপদ যাতায়াতের এই আধুনিক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ মূলত একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রেরই প্রতিচ্ছবি।

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে পশুর হাটগুলোর নিরাপত্তা এবং জাল টাকার কারবার রোধে সরকার আগে থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছিল। প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত পুলিশ ও র‍্যাবের টহল, সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট বুথের সুব্যবস্থা থাকায় ক্রেতা ও বিক্রেতারা কোনো ধরনের হয়রানি বা অজ্ঞানপার্টি-মলমপার্টির খপ্পরে না পড়ে স্বাচ্ছন্দে লেনদেন করতে পারছেন।

এছাড়া ঈদে ফাঁকা হয়ে যাওয়া শহরের আবাসিক এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ টহল জোরদার করেছে। অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখায় দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।

বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি সংবেদনশীল খাতে যে পদ্ধতিগত সংস্কার শুরু করেছিল, এবারের ঈদ-উল-আযহার সার্বিক ব্যবস্থাপনাই তার বড় প্রমাণ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং মাঠ পর্যায়ের কঠোর তদারকির ফলেই আজ দেশের মানুষ একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ উপভোগ করতে পারছেন।

ঈদ-উল-আযহার মূল শিক্ষাই হলো ত্যাগের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা। পশুর কোরবানির পাশাপাশি আমাদের মনের ভেতরের হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার ও লালসাকে কোরবানি দিতে হবে। সরকারের তৈরি করে দেওয়া এই চমৎকার ও নিরাপদ সামাজিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে আমাদের প্রতিবেশীদের, বিশেষ করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। তবেই ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পাবে।

দেশের সব নাগরিককে সুশাসন ও স্বস্তির এই শুভক্ষণে জানাই পবিত্র ঈদ-উল-আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা। **ঈদ মোবারক!**

লেখক: আতাউর রহমান মিন্টু, সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক শব্দমিছিল।

Related News

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা: আত্মশুদ্ধি ও মানবতার জয়গান

কুরবানির মূল চেতনা লুকিয়ে আছে ইসলামের মহান নবী হযরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর এক অবিস্মরণীয় ত্যাগ ও পরীক্ষার মধ্যে। মহান আল্লাহর নির্দেশে নিজের প্রিয়তম পুত্রকে কুরবানি করার যে চরম সিদ্ধান্ত হযরত ইব্রাহিম (আ.) নিয়েছিলেন, এবং পিতার সিদ্ধান্তে পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) যেভাবে হাসিমুখে আত্মসমর্পণ করেছিলেন—তা পৃথিবীর ইতিহাসে আনুগত্য ও ত্যাগের এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত।

ব্লু-ইকোনমি ও জ্বালানি নিরাপত্তা: সমুদ্রের জট খোলার চ্যালেঞ্জ ও আগামীর রূপরেখা

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে সরকার। পিএসসি ২০২৬ সংশোধন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার ওপর বিশেষ সম্পাদকীয় কলাম।

অস্তিত্ব সংকটে চামড়াশিল্প: ‘চামড়া বোর্ড’ গঠন ও পাচার রোধের দাবি

ইআরএফ মিলনায়তনে চামড়াশিল্পের সংকট উত্তরণে সেমিনার। পোশাক খাতের সঙ্গে প্রণোদনার বৈষম্য ও সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের অভিযোগ। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক শব্দমিছিলে।

এক মাসের মধ্যে রামিসার খুনির ফাঁসি নিশ্চিতের নির্দেশ একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে

ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা। শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার এক মাসের মধ্যে আইনি কাঠামোর আওতায় সম্পন্ন করার ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সম্পাদকীয় প্রশংসা।

নারী ও শিশু ধর্ষণে সাজার হার ৩% ফলে বাড়ছে অপরাধের হার!

মিরপুরের পল্লবীতে শিশু ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ। সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ হওয়ায় বাড়ছে অপরাধ। শিশু ধর্ষণ রোধে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ।

রামিসা হত্যা ও নারী নির্যাতন নির্মূল: তারেক রহমানের সামনে এসিড দমনের মতো বড় চ্যালেঞ্জ

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে ঢাকার ক্ষোভ। ডা. জুবায়দা রহমানের মন্তব্য এবং বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন নির্মূলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ওপর বিশেষ সম্পাদকীয়।

গণমাধ্যম কমিশন গঠন ও স্বাধীনতা: সদিচ্ছা বনাম বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যের আলোকে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর একটি বিশেষ সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ।

জুলাই গ্রাফিতি : স্বৈরাচারী শাসনের পতনের সাক্ষ্য

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে “জুলাই গ্রাফিতি” কেবল দেয়ালচিত্র নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। জুলাই গ্রাফিতিগুলো বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের প্রতিরোধের ভাষা এবং ইতিহাসের একটি দৃশ্যমান দলিল। এগুলো কেবল দেয়ালচিত্র নয়, বরং আন্দোলনের সময়কার বীরত্ব, শোক এবং জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

Search