‘ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প হেরে গেছেন’, দাবি নিউইয়র্ক টাইমসের
টানা চার মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে অবশেষে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখাকে ইতিবাচকভাবে দেখা হলেও, এর মাধ্যমে কিছু…
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ আবার বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। এই প্রণালি দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
আজ শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর ‘কাতাম আল-আনবিয়া’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় এটি তাদের ‘প্রথম পদক্ষেপ’। পশ্চিমা ও ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে আগামীতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর তেহরান এই জলপথটি অবরুদ্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর সম্প্রতি প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়া হয়েছিল।
উভয় দেশের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক সই হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় সেই আলোচনা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অবশ্য উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আজ জানিয়েছেন, তিনি দ্রুতই সুইজারল্যান্ডে ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। ওয়াশিংটনের ১৪ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ব্যাপারে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাননি বলেও দাবি করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
এদিকে আলোচনার টেবিলে বসার বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে ইরানও। দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে কথা বলতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দেশটির ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানান, জেনেভা বৈঠকে তারা ওয়াশিংটনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের তাগিদ দেবেন এবং মার্কিন প্রশাসন কীভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানাবেন।
মেহের নিউজের তথ্যমতে, ইরানের এই প্রতিনিধিদলটি ইতিমধ্যেই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে ইরান নিজস্ব উপায়ে প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা নেবে বলে মুখপাত্র সতর্ক করেছেন।