মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মিয়ামি স্টেডিয়ামে গোলবন্যার এক রোমাঞ্চকর লড়াই দেখল ফুটবলবিশ্ব। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিজেদের করে নিয়েছে থমাস…
অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে বসলো স্পেন। ফেরান তোরেসের করা জয়সূচক এক লক্ষ্যভেদে ২০১০ সালের পর নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরলো লা রোহারা। অন্যদিকে, ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরে ট্র্যাজিক হিরো হয়ে মাঠ ছাড়তে হলো আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে বসেছিল বিশ্বকাপের এই মহা ফাইনাল। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বদের সামনে ফুটবল বিশ্ব দেখলো স্প্যানিশ আর্মাডার চরম আধিপত্য। পুরো ১২০ মিনিটের ম্যাচে আর্জেন্টিনার ওপর একক আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে লুইস ডি লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোল অভিমুখে একটিও অন-টার্গেট শট নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।
শুরু থেকেই ম্যাচ জুড়ে ছিল ফাউলের ছড়াছড়ি। স্পেনের গতিময় আক্রমণ থামাতে বারবার কার্ড সীমানার কাছাকাছি ফাউল করতে দেখা যায় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের। ম্যাচের শুরুতেই আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও তাগলিয়াফিকো কঠিন ট্যাকল করলেও কার্ড এড়িয়ে যান। তবে ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে স্প্যানিশ ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ আর ৩৯তম মিনিটে ওয়ারজাবালের নিচু শট ঠেকানো ছাড়া প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা সেভাবে নজর কাড়তে পারেনি। ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ হলুদ কার্ড দেখার পরপরই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন, বদলি হিসেবে আসেন নিকোলাস ওটামেন্ডি।
ম্যাডোনা, শাকিরা ও জাস্টিন বিবারকে নিয়ে আয়োজিত দীর্ঘ ২৭ মিনিটের জাঁকজমকপূর্ণ হাফটাইম শো-এর পরেও স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। দ্বিতীয় অর্ধে পেদ্রি, ফেরান তোরেস এবং নিকো উইলিয়ামস মাঠে নামলে স্প্যানিশদের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণ সামলাতে গিয়ে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ দারুণ কিছু সেভ না করলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই স্পেনের জয় সুনিশ্চিত হয়ে যেতো।
অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচের গল্পে কোনো বদল আসেনি। নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ভিআরের (VAR) বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বাতিল হলেও ১০৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ফেরান তোরেস। পেদ্রো পোরোর উঁচু করে বাড়ানো ক্রস বক্সে নিকো উইলিয়ামস হেডে নামিয়ে দিলে, সেই বল নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জালে জড়িয়ে দেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড তোরেস।
পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তে খেই হারিয়ে ফেলে। পাও কুবারসিকে মারাত্মক ট্যাকল করার অপরাধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয় স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়। আর এর মাধ্যমেই বিশ্বমঞ্চে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতার ব্রাজিলীয় রেকর্ড স্পর্শ করার স্বপ্ন এবং লিওনেল মেসির দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের ঐতিহাসিক সুযোগ—দুটোই অধরা থেকে গেল।