রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতে আমূল সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ
সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১.৫১ লাখ কোটি টাকায় বৃদ্ধি, কারণ ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।
দীর্ঘ বিরতি ও নানা রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জাতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এই নির্বাচনে ৩৪৯টি ভোটের মধ্যে ২৫৫ ভোট পেয়ে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে সমাসীন হওয়ার বিশাল জনম্যান্ডেট অর্জন করেছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের অনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এক নতুন দিগন্ত সূচিত হলো। নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, যা আমাদের সংসদীয় চর্চাকে আরও সুসংহত করবে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর নামেই রাষ্ট্রের সর্বময় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দীর্ঘ সময় পর জাতীয় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পুরো দেশের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক ও ইতিবাচক বার্তা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অন্যতম প্রধান অগ্রদূত হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
রাজপথের কঠিন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্বে সবসময় প্রজ্ঞা, সহনশীলতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতিফলন দেখা গেছে। দলমত নির্বিশেষে একজন মার্জিত ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের অভিভাবক। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্ব উঠে সংবিধান রক্ষা, আইনের শাসন সুসংহত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলাই হবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির প্রধান দায়িত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা শেষে দেশে যে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে তিনি তা রক্ষা ও বেগবান করবেন—দেশবাসীর আজ এই প্রত্যাশা। দেশের বর্তমান বাস্তবতায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে রাষ্ট্রপতির অভিভাবকীয় ভূমিকা অপরিহার্য।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও ভিন্নতা সত্ত্বে একটি সুনির্দিষ্ট ভোটাভুটির মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পাদন প্রমাণ করে যে, ইতিবাচক চর্চা ফিরিয়ে আনলে আমাদের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবেন এবং সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন।
নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালে বাংলাদেশ একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও শান্তিময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাক—এটাই আমাদের একান্ত কাম্য।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাস্ট্রচিন্তক।