নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে প্রতারণা: এনসিপি নেত্রী সাদিয়া ইসলাম গ্রেপ্তার
নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে এনসিপি নেত্রী সাদিয়া ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নোয়াখালী: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর রাতে মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এই দখলের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও মসজিদের মোতওয়াল্লি।
গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া বাইপাস সড়কসংলগ্ন সুলতান আহমদ জামে মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি জবরদখলের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ও অভিযোগে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে এই দখলের ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মাওলানা মিজানুর রহমান রাজু বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও তিনি বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতি থেকে মৌখিকভাবে পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেছেন।
সুলতান আহমদ জামে মসজিদের মোতওয়াল্লি নুরুর রহমান অভিযোগ করে জানান, জামায়াত নেতা মাওলানা মিজানুর রহমান রাজু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বহিরাগত লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে গভীর রাতে মসজিদের ওয়াকফকৃত এবং তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে মাটি ও বালু ফেলে জবরদখল করেছেন।
তিনি জানান, এই সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে ২০০৬ সালে তিনি নোয়াখালী আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা (নম্বার ৪৮) করেন। পরবর্তীতে ওই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত ৫৭-২০০৭ নম্বর নিষেধাজ্ঞা মামলার আবেদন মঞ্জুর করে ১ জুলাই ২০০৮ সালে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের এই স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মিজানুর রহমান রাজু গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে জোরপূর্বক মাটি ভরাট করে জমি দখল করেন।
নুরুর রহমান আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করার পর গত ২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেই বৈঠকে জমি মাপজোখ করে মীমাংসার সিদ্ধান্ত হলেও জামায়াত নেতা রাজু তা অমান্য করে পুনরায় মাটি ও বালু ভরাট অব্যাহত রাখেন। এই জবরদখলের প্রতিকার চেয়ে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম, প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জমি জবরদখলের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াত নেতা মাওলানা মিজানুর রহমান রাজু দাবি করেন, তিনি অন্য কারও সম্পত্তি দখল করেননি, বরং নিজের কেনা ও পৈত্রিক জমির ওপরই মাটি ও বালু ভরাট করছেন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম জানান, ঘটনাটি জানার পর উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের সীমানা মেপে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে বর্তমানে জোরপূর্বক জবরদখলের সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি।