মাঠে একাই ফুটবল নিয়ে মেতে উঠল বুনো হাতি!
ভারতের আসামে একটি বুনো হাতির ফুটবল খেলার দারুণ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শুঁড় ও পায়ে বল নিয়ে তার ফুটবল খেলার দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করেছে।
ফিচার: জলপাই-পিঠের সুদর্শন ও চঞ্চল পাখিটিকে প্রথম দেখা বা ছবি তোলার স্মৃতি অনেকের কাছেই রোমাঞ্চকর। এর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি হয়েছিল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে। শীতের এই পরিযায়ী পাখিটিকে নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমী ও পাঠকদের জন্য রইল এক রোমাঞ্চকর ভ্রমণ ও পাখি দেখার গল্প।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আমলকীবাগানে ২০১০ সালের এক রোদেলা বিকেলে প্রথম এর ছবি তোলার পর বহু স্থানে পাখিটির দেখা মিলেছে। তবে এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্তটি ধরা দেয় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে। কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় দিনভর জলচর পাখির ছবি তোলার পর আদনান আজাদ ও ফারজানা রিক্তার অনুরোধে সন্ধ্যায় নাইক্ষ্যংছড়ির আকিজ রেপটাইলস ফার্মে যাওয়া হয়। খামারের কৃত্রিম কুমিরশালায় মধুবাজের দেখা পাওয়ার পরদিন সকালে ঘটে আসল ঘটনা।
পরদিন সকালে নাশতা খেতে রেস্টহাউসের দোতলায় টেবিলে বসতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে জলপাই-পিঠের পাখিটিকে একটি বরইগাছের ডালে এসে বসতে দেখা যায়। চমৎকার আলোয় দ্রুত কয়েকটি ক্লিক করার পর পাখিটি বরইয়ের ডাল থেকে উড়ে গিয়ে বিদ্যুতের তারে বসে। ১৮ জানুয়ারি ২০২০ সালের সেই রোদেলা সকালে অতি চঞ্চল পাখিটির দারুণ কিছু ছবি ক্যামেরাবন্দি করা সম্ভব হয়।
এ দেশে এটি সচরাচর দৃশ্যমান শীতের পরিযায়ী পাখি ‘জলপাই-পিঠ তুলিকা’। বাংলায় এর নির্দিষ্ট কোনো প্রচলিত নাম না থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে একে ‘মুচাসী’ নামে ডাকা হয়। এর ইংরেজি নাম ‘অলিভ-ব্যাকড পিপিট’ (Olive-backed Pipit) এবং বৈজ্ঞানিক নাম Anthus hodgsoni (গোত্র: Motacillidae)। বাংলাদেশ ছাড়াও উত্তর, মধ্য ও পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর-পূর্ব ইউরোপে এদের দেখা মিলেছে।
চড়ুইয়ের চেয়ে সামান্য বড় আকারের এই পাখির দেহের দৈর্ঘ্য ১৫-১৭ সেন্টিমিটার এবং ওজন ২১-২২ গ্রাম। এদের কালচে বা গাঢ় ঘোলাটে ছিটছোপসহ দেহের ওপরের অংশ জলপাই-সবুজ এবং ডানার পালকের প্রান্ত উজ্জ্বল জলপাই-সোনালি। বুক ও পেটে মোটা মোটা কালচে দাগ থাকে এবং পা, আঙুল ও নখ গোলাপি রঙের হয়ে থাকে। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি দেখতে হুবহু একই রকম হয়।
শীতকালে দেশের গাছপালাসম্পন্ন এলাকা, ছায়াঢাকা কাষ্ঠল জঙ্গল, ফলের বাগান, বাঁশঝাড় ও মাঠের ধারে ছোট দলে বা কদাচিৎ একাকী এদের বিচরণ দেখা যায়। হাঁটার সময় এরা খানিক পরপর লেজ ওপর-নিচে করে নাচতে থাকে। মূলত মাটিতে পাতাসারের ওপর হেঁটে কীটপতঙ্গ, শূককীট এবং ঘাস বা আগাছার বীজ সংগ্রহ করে খায়। মে থেকে আগস্ট মাস এদের প্রজননকাল। এ সময় শীতল পার্বত্য অঞ্চলে মাটিতে বা গাছের নিচে বাসা বেঁধে এরা ডিম পাড়ে এবং যুগল মিলে ছানাদের লালন-পালন করে।