বিমা দাবি পরিশোধ ও আইডিআরএ সংস্কার এখন সময়ের দাবি : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান
বিমা খাতের অনিয়ম ও ৫৭% বকেয়া দাবি পরিশোধে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নির্দেশনা ও আইন সংশোধনের ওপর বিশেষ সম্পাদকীয়।
একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না; বরং তার ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে সামাজিক মূল্যবোধ, আইনশৃঙ্খলা, আইনের শাসন ও পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর বক্তব্য অত্যন্ত গভীর ও বাস্তবমুখী এক সত্য প্রকাশ করে—‘সামাজিক অবক্ষয় এক দিনে ঘটে না, প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে সমাজকে সঠিকভাবে খাপ খাওয়াতে অভিভাবক, শিক্ষক, নাগরিক ও রাষ্ট্রকে একযোগে দায়িত্ব নিতে হয়।’
সমাজিক অবক্ষয়, কিশোর গ্যাং কালচার ও দুর্নীতির মতো ব্যাধিগুলো নিরসনে সরকারের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি এখন সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।
লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রশাসনিক তদারকির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ সভাটি স্থানীয় সুশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের অপরাধ চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক এবং অন্যান্য অপরাধ মিলে ২০৮টি ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে পেন্ডিং বা অমীমাংসিত ১২ হাজার ১৪টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার উপস্থিতি বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা ও মাঠপর্যায়ের পুলিশি কার্যকারিতা বৃদ্ধির জোর তাগিদ দেয়।
কিশোর গ্যাং ও মাদকের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
শুধু আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য স্কুল-কলেজ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালুর নির্দেশ ইতিবাচক পদক্ষেপ। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার এবং ২৪০টি মামলা দায়ের হলেও মাদকের রুট বন্ধে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) বজায় রাখা প্রয়োজন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশে কৃষি জমির টপসয়েল কাটা এবং অবৈধ ইটভাটা পরিচালন পরিবেশের ওপর স্থায়ী বিপর্যয় ডেকে আনছে। জেলা প্রশাসনের অভিযানে ৬৫টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ এবং কোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায় নির্দেশ করে যে কঠোর আইনি তদারকি থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। লক্ষ্মীপুরের নদী-খাল রক্ষা, বেপরোয়া ডাম্প ট্রাকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ, পুলিশ বিভাগের তত্পরতা এবং সুশীল সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কেবল একটি নিরাপদ ও সবুজ লক্ষ্মীপুর গড়ে তোলা সম্ভব। পরিবেশমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সাথে জনসেবা প্রদান এবং সব সমস্যা শুধু রাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে না দিয়ে নাগরিক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে সামাজিক অবক্ষয় দূর করে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ লক্ষ্মীপুর বিনির্মাণ সম্ভব হবে।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।